Aaj lndia Desk, আরামবাগ : বিধানসভা নির্বাচনের প্রাকলগ্ন থেকেই আরামবাগ কেন্দ্রকে ঘিরে ছিল রাজনৈতিক টানা পোড়েন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে আবারও শিরোনামে আরামবাগ। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন মিতা বাগ (Mita Bag) হেমন্ত বাগ ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রার্থী হেমন্ত বাগ মোট ২৮,৯৫৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
রাজ্য নেতৃত্বের বার্তা ছিল স্পষ্ট ভোটের পর কোনওভাবেই অশান্তি নয়, সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে হবে। বিজেপির কর্মী -সমর্থকদের উদ্দেশেও দেওয়া হয়েছিল কড়া নির্দেশ। কিন্তু সেই নির্দেশ কি আদৌ মানা হল?আরামবাগে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে উঠছে ঠিক সেই প্রশ্নই। অভিযোগ, আরামবাগ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আর এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে আরামবাগের তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মইগ্রামের বাড়িতে আরামবাগ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের বাড়ির অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশপাশি পরিবারের একমাত্র রোজগারের ভরসা টোটোরও একাধিক অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি
এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীরাই ঘটিয়েছে। তবে আতঙ্কের কারণেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, শুধু মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের।
ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুশান্ত বেরা। তাঁর দাবি, “এ ধরনের ঘটনা বিজেপির সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না।” সুশান্ত বেরার কথায়, ভোটের পর কোনও রকম অশান্তিতে জড়াতে না করেছেন রাজ্য নেতৃত্ব, আগেই কড়া নির্দেশ দিয়েছে দলীয় কর্মীদের। তাঁর মতে, বিজেপি কর্মীরা জয়ের আনন্দে মেতে থাকলেও রাজনৈতিক হিংসার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নন।উল্টে এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছে বিজেপি। সুশান্ত বেরার দাবি,”তৃণমূলের নিজেদের লোকজনই এই ঘটনা ঘটিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপির কোনও কর্মী এ ধরনের কাজে জড়িত থাকতে পারেন না।


