Aaj India Desk, পুরুলিয়া: কবি সাহিত্যিক গবেষক ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক মুকুন্দ বিহারী বিশ্বাসের (Mukunda Bihari Biswas) জীবনাবসান। ৮৪বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হলেন।পুরুলিয়া জেলার দেবেন মাহাতো সরকারি হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে জেলার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসা চলছিল। হার্ট জনিত সমস্যার কারনে শরীরে বেশ কিছু জটিলতা শুরু হয়।
জন্ম ১৯৪৪ সাল,তখন অখণ্ড ভারতবর্ষ। দেশ ভাগের যন্ত্রণা তাকে পীড়া দিতো। বহু লেখায় তিনি বলেছেন দেশ ভাগ তিনি চাননি। অল্প বয়েসে স্বদেশ ভেঙে দু টুকরো হওয়া তিনি দেখেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন আকাশ পথে তাকিয়ে। বহু লড়াই সংগ্রাম তার জীবনে। কখনো কোন অন্যায় আপোষ করতেননা। আধ্যাত্মিক চিন্তায় তিনি বিজ্ঞানের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করতেন। যার মধ্যে পৃথিবী আবিষ্কার এবং মরুভূমি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক নাটক লেখাও পাওয়া যায়। কিছু বছর আগে তার একটি গবেষণা ভারতবর্ষের এনসিআরটি সিলেবাসে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি চিঠি মুকুন্দ বিহারি বিশ্বাসকে পাঠান। নারী স্বাধীনতা স্বদেশ প্রেম সমাজ চেতনা চরিত্র গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য প্রকৃতি বিজ্ঞান ঈশ্বর ভাব এইসব ছিলো তাঁর লেখার বিষয়। নিজে প্রচার বিমুখ থাকতে পছন্দ করতেন। কর্মময় জীবনের শুরুতে তিনি প্রথমে কেন্দ্রীয় কর্মচারী পদে কর্মরত ছিলেন আসানসোল এর চিত্তরঞ্জনে। পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হন। পুরুলিয়া জেলা শহরের খেলাইচণ্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় মানুষ শিক্ষা প্রকল্পে জমী দান করেন। শুরু হয় পঠনপাঠন। জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী , বিজ্ঞান নাটক, কুসংস্কার দূরীকরণ, স্বাস্থ্য শিক্ষা সচেতনতা, জেলায় প্রথম পালস পোলিও টিকা করণ কর্মসূচি এবং গান রচনা করেন। তিনি ঈশ্বর বিশ্বাসী হলেও উগ্রতা বিরোধি ছিলেন। স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস দেবের দীক্ষিত ছিলেন। জেলার দায়িত্বে থেকে প্রচার করতেন। চরিত্র গঠন আন্দোলন সভার উদ্যোগ নিতেন। তার অসংখ্য লেখা বই ছড়া সাহিত্য কবিতা অধ্যাত্মবাদ ও বিজ্ঞান গবেষণা নিয়ে বই রয়েছে। মুকুন্দ বিহারী বিশ্বাস (Mukunda Bihari Biswas) পুরুলিয়া জেলার চাকদায় দেবমানব এডুভারসিটির প্রবক্তা। তাঁর নিজ বাসভবনে অখণ্ড সাহিত্য সংসদ নামেই পরিচিতি লাভ করেছেন। এটিরও প্রবক্তা তিনি নিজেই। তিনি এ বি পি টি এ পুরুলিয়া জেলা শহরের সক্রিয় মর্যাদায় ছিলেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের শীত বস্ত্র পড়াশোনার বই খাতা আর্থিক সাহায্য করতেন। যা তিনি প্রচারে আনতেন না।
পথ কুকুরদের সেবা দিতে পছন্দ করতেন। ডিসপোজাল সিরিঞ্জ মানুষের শরীরে একবার প্রবেশের পর দ্বিতীয়বার প্রবেশ অনুচিত এই নিয়ে তিনিই প্রথম একটি আর্টিকেল অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রাত্যহিকী অনুষ্ঠানে সম্প্রচার করা হয়েছিল। ওভার্ল্যান্ড পত্রিকায় তার দর্শন ভাবনা প্রকাশিত হয়েছিল। উনি জাত ভেদাভেদ প্রথার বিরোধী ছিলেন। স্বামী স্বরূপানন্ডের সেই বানী পাঠ করে শোনাতেন। অভয় দিতে ভালোবাসতেন। চিন্তার গভীরতা ছিলো অপরিসীম। সবাইকে সমভাবে দেখতেন। তার বাড়ি ছিলো সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্য অবারিত দ্বার। যত্ন নিতে ভালোবাসতেন। ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হন। এছাড়াও জেলায় বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। মুকুন্দ বিহারী বিশ্বাস (Mukunda Bihari Biswas) পুরুলিয়া জেলার জঙ্গল মহল উদ্যোগের প্রথম সভাপতি হন। বাংলা সংস্কৃতি বলয় পুরুলিয়া জেলার সভাপতি হিসেবেও কার্যভার বহন করেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জেলার সংস্কৃতির দিকে নজর রাখতেন।


