Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কেটে গেছে প্রায় ৪ দিন। আগামীকাল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার শপথ নিতে চলেছে। তবুও ভোট পরবর্তী হিংসা বন্ধ হচ্ছে না। তৃণমূলের পার্টি অফিস ছেড়ে এখন সাধারণ মানুষের উপর কোপ পড়েছে গেরুয়াবাহিনীর। বিভিন্ন জায়গায় জয় শ্রীরাম বলে চড়াও হচ্ছে তারা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে বিজেপির( BJP )ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদিন আগেই ছাত্র সংগঠন ডি এস ও এর উপর হামলা করে এক ছাত্রের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তারা।সারা ক্যাম্পাস এখন এবিভিপির পতাকায় ছেয়ে গেছে।
নতুন করে কোথায় আক্রমন?
আলিপুর বেহালা উলোডাঙ্গা নিউটাউনসহ সারা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ফুটপাথের উপর বা পাশে থাকা দোকান নির্বিচারে ভাঙ্গা চলছে। পারমিট বা লাইসেন্স দেখালেও রেহাই মিলছে না। উল্টোডাঙ্গার এক দোকানি বলছেন,” আমার মেয়ে যোগমায়া কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। সব শেষ। অনেক কষ্ট করে দোকান করেছিলাম, হাজার হাজার টাকা আমার লস হয়ে গেল।” তাঁদের দোকান ভেঙে গুঁড়ো করে দেওয়া হয়েছে সঙ্গে দোকানের জিনিসপত্র, খাবার দাবার ভেঙে গুড়িয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এক মহিলা দোকানির কথায়,”বিজেপি( BJP ) তো হিন্দুদের দল, ওরা নাকি হিন্দুদের বাঁচায়। আমরা সবাই হিন্দু, কই আমাদের শাঁখা পলা সিঁদুর সব দেখেও তো রেহাই দিল না।” যাদবপুরে সুলেখায় ফলের দোকান ছিল সজল চক্রবর্তীর। ভোটের ফলপ্রকাশের পর দোকান খোলা তো দূরের কথা মালপত্র বার করারও অনুমতি পাননি তিনি। বিভিন্ন জায়গায় পূর্বতন সরকারের তৈরি বিশ্ববাংলা গ্লোব তুলে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ সূত্রে খবর আজ সকালেও বিশ্ব বাংলা গেট ভাঙার চেষ্টা হয়। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের আগমনের পর রণে ভঙ্গ দেয় শ্রীরামের ভক্ত বাহিনী।
নেপথ্যে কে?
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি( BJP ) নেতারা বারবার হিংসা বন্ধ করতে বললেও হামলা বন্ধ হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ বা সিআরপিএফএর সামনেও কোনো কোনো জায়গায় ভাঙচুর চলছে। বিজেপির বক্তব্য এর নেপথ্যে আছে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী, তারাই রং বদল করে একাজ করছে । সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তারা পরিবর্তনের আশায় বিজেপিতে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেই যদি তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করতে হয় গেরুয়া রঙের আড়ালে তাহলে এমন পরিবর্তন করে কি লাভ হল? রাজনৈতিক মহলের চিন্তা দোকান ভাঙার ফলে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন,এর ফলে সমাজে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট হতে পারে।


