Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের ফলাফলের পর বিজেপির অন্দরে খুশির ছায়া নামলেও এক অদৃশ্য আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের আবহ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এবার সেই আবহ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল মঙ্গলবার রাতে। (Post Poll Violence)
হঠাৎ ভাঙচুরে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা
গতকাল রাতে যোগী রাজ্যের আদলে কলকাতার ঐতিহাসিক নিউ মার্কেটের কাছে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় TMC-র ইউনিয়ন অফিস। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে বহু ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে এলাকা ছাড়েন। ঘটনাস্থলের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, যেখানে বুলডোজারের পাশে কিছু মানুষের হাতে বিজেপির পতাকা দেখা যায়। সাথে চলে জয় শ্রী রামের স্লোগান। হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় পৌঁছে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় টহল বাড়ানো হয়। কলকাতা পুলিশের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়। তা সত্ত্বেও কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। (Post Poll Violence)
জেলায় জেলায় অশান্তির ছবি
একই রাতে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ এলাকায় লেনিনের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রাতের দিকে একদল বিজেপি সমর্থক হঠাৎ জড়ো হয়ে মূর্তিটির ওপর হামলা চালায়। প্রথমে মূর্তির উপরের অংশে আঘাত করা হয়, পরে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের অন্ধকারে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। খবর পেয়ে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ। (Post Poll Violence)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। TMC সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “পরিবর্তন” এখন বুলডোজারের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। ডেরেক ও’ব্রায়েনও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই সমস্ত ভাঙচুর হচ্ছে। অন্যদিকে বাম শিবিরের তরফ থেকেও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে যে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজেপির প্রভাবে এই হিংসার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো ঘটনার সাথেও সরাসরি বিজেপির কোনো যোগসূত্র নেই।


