Aaj India Desk, কলকাতা: আগামী সোমবার ৪ তারিখ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। তার আগেই গণনার দিন দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ও কর্মীদের ডিউটি সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী অভিযোগ করলেন ?
রবিবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একটি পোস্ট করে অভিযোগ করেন, কিছু সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন স্প্রেডশিট বা তালিকা তৈরি করে অফিসারদের কাছ থেকে “Election Duty Info” সংগ্রহ করছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা স্বেচ্ছায়, আবার কোথাও চাপের মুখে তথ্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এই তথ্যের মধ্যে গণনা প্রক্রিয়ায় অফিসারদের নির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট : https://x.com/i/status/2050836701178937772
প্রভাব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
বিরোধী নেতার মতে, এই ধরনের তথ্য ফাঁস নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি তিনটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন—
- অযাচিত প্রভাবের আশঙ্কা: রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সংগঠনের কাছে ডিউটির তথ্য পৌঁছালে অফিসারদের উপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
- নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা: গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- চাপ প্রয়োগের অভিযোগ: এই তথ্য সংগ্রহকে “চাপ তৈরির কৌশল” হিসেবেও দেখছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। কোনও অফিসার যাতে গণনা সংক্রান্ত দায়িত্বের তথ্য বাইরে প্রকাশ না করেন, সেই মর্মে কমিশনের কাছে কঠোর নির্দেশিকা জারি করার অনুরোধ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি যে যে সংগঠনগুলি এই তথ্য সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করারও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে দুর্গাপুরে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খানও গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গণনা প্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়মের চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টিএমসির আইপ্যাকের কিছু সদস্য হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের গণনা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছ থেকে নথি ও পরিচয়পত্র চেয়ে নিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বেআইনি।
এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও নির্বাচন কমিশন বা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গণনা প্রক্রিয়ার আগে এই অভিযোগ সামনে আসায় নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


