কলকাতা: রবিবার ফলতায় এক বর্ণাঢ্য রোড শো থেকে দেওয়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার প্রতিফলন দেখা গেল আইনি ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর মন্তব্যের পর সোমবার আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে রাজ্যের শাসক দল। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক একদিন আগে কি নিয়ে এই নতুন আইনি লড়াই?
‘গোপন আঁতাঁত’ অভিযোগে তোলপাড়
বস্তুত, সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) পুলিশ অবজার্ভার পারমার স্মিত পরশোত্তমদাসের সঙ্গে মগরাহাটের বিজেপি প্রার্থী গৌর সুন্দর ঘোষের ‘গোপন আঁতাতের’ অভিযোগ তোলে তৃণমূল। এক্সে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল দাবী করে, পুলিশ অবজার্ভারকে “আলিপুরের আইপিএস মেসে তাঁকে সরকারি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া সত্ত্বেও প্রোটোকল ভেঙে ডায়মন্ড হারবারের ‘সাগরিকা হোটেল’-এর ২০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি।”
এই দাবির প্রেক্ষিতে রবিবার ফলতার জনসভা থেকে সুর চড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, “ওরা ভেবেছিল গোপনে বৈঠক সারবে, কেউ টেরই পাবে না। কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) আকাশ-বাতাস, লতা-পাতা, সবখানেই আমার নজর রয়েছে। যে পুলিশ অবজার্ভার এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁকে আমি টেনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।” সেই হুঁশিয়ারি সত্যি করে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করল তৃণমূল।
ডায়মন্ড হারবারের পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড
তৃণমূলের প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে জল্পনা, বিতর্কের মাঝেই ২৫ এপ্রিল ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) পাঁচজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ আধিকারিক হলেন, সন্দীপ গড়াই (অতিরিক্ত এসপি, ডায়মন্ড হারবার), সজল মণ্ডল (এসডিপিও, ডায়মন্ড হারবার), মৌসম চক্রবর্তী (ওসি, ডায়মন্ড হারবার থানা), অজয় বাগ (ওসি, ফলতা থানা) সুভেচ্ছা বাগ (ওসি, উস্তি থানা)। এখন দেখার তৃণমূলের দায়ের করা নতুন রিট পিটিশন নিয়ে কি পদক্ষেপ নেয় কলকাতা হাইকোর্ট।


