Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : বেলডাঙা দাঙ্গা মামলায় ১৫ জন অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। নিম্ন আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মেনেই জামিন দিয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে NIA।
জামিন নিয়ে আইনি টানাপোড়েন
NIA-র দাবি, তদন্ত চলাকালীন এইভাবে জামিন দেওয়ার অধিকার নিম্ন আদালতের নেই। সংস্থার অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অন্যদিকে, আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও NIA চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতেও সমস্যায় পড়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে না পারায় অভিযুক্তদের আইনজীবীরা গত শনিবার জামিনের আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বিশেষ NIA আদালত ১৫ জনকে জামিন দেয়।
তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট NIA কে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যার ভিত্তিতে ঠিক হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA) ধারা বহাল থাকবে কি না। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা পড়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি রিপোর্টে প্রমাণের ঘাটতি বা তদন্তে শৈথিল্যের ইঙ্গিত মেলে, তবে UAPA-এর মতো কঠোর ধারা দুর্বল হতে পারে বলেই আইনি মহলের মত।
বেলডাঙা মামলার সূত্রপাত
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা এলাকায় একটি পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হিংসাত্মক ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সড়ক ১২ (NH-12) অবরোধ করেন, টায়ার জ্বালিয়ে ধোঁয়া তুলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে বেলডাঙা রেল স্টেশন এবং আশপাশের রেল লাইন অবরোধ করায় শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। সরকারি সম্পত্তির ভাঙচুর, রেলগেট ভাঙা এবং পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
প্রথমে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনার তদন্ত NIA-র হাতে তুলে দেয় এবং UAPA-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে ১৫ জন জামিনে মুক্ত হলেও বাকি ২০ জন এখনও বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
বেলডাঙা দাঙ্গা মামলায় তদন্তের গতি ও আইনি প্রক্রিয়া এখন আদালতের কড়া নজরে। মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয় সেটাই এখন দেখার।


