Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : সাগর বিধানসভায় প্রচারে নেমে কার্যত ঝড় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জনসভা মঞ্চ থেকে এদিন তিনি যুব সমাজকে লক্ষ্য করে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের বার্তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর প্রসঙ্গ টেনে মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার দিকটিও তুলে ধরেন তিনি।
অভিষেক জানান, ফেব্রুয়ারিতে ফর্ম ফিলাপের সময় যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, তার পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে শুধু সাগর ও নামখানা এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যুবক-যুবতী ইতিমধ্যেই সরকারি সহায়তা হিসেবে ১৫০০ টাকা করে পেয়েছেন। মার্চ ও এপ্রিল দু’মাসেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে বহু উপভোক্তার কাছে।তবে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আদর্শ আচরণ বিধির কারণে আপাতত নতুন করে অর্থ ছাড়া সম্ভব নয়। ৪ মে ফল প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যেই বাকি সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। তাঁর কথায়, “কেউ বঞ্চিত থাকবেন না।”
“লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন বাংলার মায়েদের ভরসা” সাগরের সভা থেকে এমনই বার্তা শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র গলায়।তিনি বলেন, সাগর বিধানসভা এলাকাতেই প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা প্রতি মাসে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তপশীলী মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন যা বছরে দাঁড়াচ্ছে যথাক্রমে ১৮ হাজার ও ২০ হাজার টাকায়।অভিষেকের দাবি, আগামী দিনে তৃণমূল সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরলে এই আর্থিক সহায়তা আরও ধারাবাহিকভাবে চলবে। তাঁর কথায়, “পাঁচ বছরে একজন সাধারণ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকারও বেশি পৌঁছে যাবে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এত বড় পরিসরে মহিলাদের জন্য এমন আর্থিক সহায়তার উদাহরণ নেই।
“আমাদের প্রথম লক্ষ্যই হবে মানুষের মাথার উপর ছাদ আর নিরাপদ ভবিষ্যৎ”সাগরের সভা থেকে এমন বার্তাই দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।অভিষেক জানান, গত দুবছরে এই এলাকার ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২১ হাজার গরিব মানুষের জন্য “বাংলার বাড়ি” প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দিয়ে মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। তাঁর দাবি, এই উন্নয়নের ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। সভা মঞ্চ থেকেই তিনি স্থানীয় প্রার্থী বঙ্কিমদাকে ফের জেতানোর আবেদন জানান এবং আশ্বাস দেন, জয়ের পর এই ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন।একই সঙ্গে ঘোড়ামারা দ্বীপের বাস্তুহারা পরিবারগুলির সমস্যার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। যাঁরা জমি ও বসবাসের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পুনর্বাসনই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার এই পরিবারগুলিকে নিরাপদে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”


