Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান: ভোটের আবহে ফের কয়লা পাচার নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল অন্ডালে। শনিবার রাতে অন্ডাল থানার অন্তর্গত সিঁদুলি গ্রাম থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ মজুত করা কয়লা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যেই এই কয়লা জমিয়ে রাখা হয়েছিল।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বিষয়টি জানান রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে বড় প্রশ্ন নজরদারির ফাঁক কোথায়? ভোটের সময় এত বড় মাপের অবৈধ মজুত কীভাবে অগোচরে রয়ে গেল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
সূত্রের দাবি, মজুত রাখা কয়লার বড় অংশই প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল, যাতে সহজে নজরে না পড়ে। বাকিটা বস্তাবন্দি করে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অন্ডাল থানার পুলিশ ও ECL-এর আধিকারিকরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর ECL কর্তৃপক্ষ ট্রাকে করে ওই কয়লা সরিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ, অবৈধ মজুত ও পাচারের চক্রের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে মুখ খুলেছেন ECL-এর আধিকারিক অশোক দাস। তাঁর কথায়, কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ কয়লা সেখানে মজুত করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই একটি FIR দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ অভিযোগ করেন, কয়লা পাচারের টাকাই ভোটে ব্যবহার করছে তৃণমূল। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধরনের অবৈধ কারবারে লাগাম টানা হবে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রানিগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কালো বরন মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, সিঁদুলি এলাকায় কোথা থেকে কয়লা উদ্ধার হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন, তাই বিষয়টি না জেনে কোনও মন্তব্য করতে চান না।


