Aaj India desk, কলকাতা: গত রাতে যাদবপুরে(Jadavpur) নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গরীব মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকান। বাড়ির ভেতরে সন্তান থাকার করুন আর্তনাদকে উপেক্ষা করেই চলেছে বুলডোজার। গত ২ তারিখ রেল থেকে প্রথম ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাম দলগুলি তখন আদালতের রায় দেখায়। যে রায়ে লেখা ছিল যে ওই চত্বরের মানুষকে বিকল্প কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না। কথা হয়েছিল ৮ তারিখ কোর্ট খুললে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হবে রেলকে। তার আগেই গতকাল ৭ তারিখ লাঠির আঘাতে প্রতিরোধ ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে। সেই মামলায় আজ আলিপুর আদালত থেকে মুক্তি পেলেন সৃজন।
মুক্তি পেয়ে কি বললেন সৃজন?
যাদবপুরকে (Jadavpur) বুলডোজারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি সৃজন। মুক্তি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন,” কথা দিয়ে যাওয়ার পরেও ৭ তারিখ রাতে বিশাল ফোর্স এনে রেল এবং রাজ্য সরকারের পুলিশ ভাঙচুর করে দিল। মানুষগুলোর উপর লাঠিচার্জ করল। লাঠিচার্জের যেকোনও ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে মাথা ফাটানোর মত করে লাঠি চালানো হচ্ছে। সুজন চক্রবর্তীর মাথায় লাঠি পড়েছে, অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্যের মাথা ফেটেছে, আরও বেশ কিছু ছাত্রের মাথা ফেটেছে। তার মানে মানুষগুলোর উপর অত্যাচার করবে বলেই ওরা এসেছিল। এটাকে আমরা চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছি। আগের দিন বলে যাওয়া কথার খেলাপ করা হল।”
আজ রাতেই কি বাকি উচ্ছেদ?
যাদবপুর (Jadavpur) স্টেশনে এখনও উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ন হয়নি। এখনও সেখানে ব্যারিকেড রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে আজ রাতেই বাকি অংশে চলবে বুলডোজার। সৃজনের আবেদন,”আমরা আবেদন করছি বামপন্থীদের সঙ্গে আসুন। যাদের বামপন্থীদের সঙ্গে আসতে বাধো-বাধো ঠেকবে, তাঁরা নিজেদের মত করে প্রতিবাদ করুন। আইটি কর্মীদের বিনা নোটিসে ছাঁটাই করে দিলে তাঁদের যেমন যন্ত্রণা হয়, এই গরিব হকার, রেল সাইডিং-এ থাকা ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের উচ্ছেদ করলেও ঠিক তেমনটাই হয়। রাতবিরেতে কারুর শরীর খারাপ হলে বা এলাকায় আগুন লাগলে এই মানুষগুলোকেই সবার আগে পাশে পাওয়া যায়। সেই মানুষদের পেটের উপর দিয়ে বুলডোজার চললে, পেটে লাথি পড়বে—এটা হতে পারে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে যদি সংবেদনশীলতা থাকে, মানবিকতা থাকে, তবে নিজের মতো করে এর প্রতিবাদ করুন।”


