নয়াদিল্লি: ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে’ লোকসভার ভোটাভুটিতে ভরাডুবি এত সহজে হজম করবে না কেন্দ্র সরকার, ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। উল্টে এই পরাজয়কেই পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে ব্যবহার করছে বিজেপি। শনিবার অর্থাৎ আজ রাত সাড়ে ৮ টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দেশবাসীর নজর রয়েছে সেদিকেই। এই ভাষণে কি বলতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী? এদিন তামিলনাড়ুর জনসভায় তার ভাষণ থেকেই কিছুটা আন্দাজ করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কি বললেন মোদী?
বলা বাহুল্য, শুক্রবার লোকসভায় ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর এই প্রথম মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাও আবার ভোটমুখী তামিলনাড়ুর নির্বাচনী প্রচার থেকে। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের আগে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই বিল আটকানোর নেপথ্যে ডিএমকে এবং কংগ্রেসকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
তাঁর অভিযোগ, এই বিল পাশ হলে মহিলারা উপকৃত হতেন। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন বিরোধীরা। “আজ আমি আপনাদের সঙ্গে আমার কষ্ট আর ক্ষোভ ভাগ করে নিতে চাই। ২০২৩ সালে আমরা নারী শক্তি বন্দন আইন পাশ করেছিলাম। আর এই মাসের ১৬ তারিখে সংসদ ও রাজ্যের বিধানসভায় নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপও নিয়েছি”, বলেন মোদী (Narendra Modi)। সেইসঙ্গে এই লড়াই এখানেই শেষ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
“মহিলা সংরক্ষন-এর বিরোধী নই”
অন্যদিকে, লোকসভায় এই বিল পেশ হওয়ার আগে থেকেই বিরোধীরা সাফ জানিয়ে আসছিলেন জে তাঁরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধী নন। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে এই বিলটিকে “ডিলিমিটেশনের” সঙ্গে মিলিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র। যার বিরোধিতা করে ইন্ডিয়া জোট। সেইসঙ্গে তাঁদের দাবী, বিধানসভা আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নয়, বরং, ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ কার্যকর করার দাবী তোলেন তাঁরা।
বলা বাহুল্য, গত ১২ বছরে এই প্রথমবার সংসদে কোনও বিল পাশ করতে হার হয়েছে শাসক এনডিএ জোটের। যা বিরোধী শিবিরের মনোবল অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে, এই হারের পর নির্বাচন-মুখী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিরোধীদের ‘নারী বিদ্বেষী’ বা ‘নারী সংরক্ষণ বিরোধী’ বলে প্রচার চালাবে বিজেপি, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


