Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার (Debashish Kumar)-এর বাড়িতে তল্লাশির পর এবার আয়কর দফতরের নজর পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর ভবানীপুর কেন্দ্রের মনোনয়নপত্রে থাকা এক প্রস্তাবকের বাড়িতে। শুক্রবার দুপুরে ভবানীপুরের ২ নম্বর এলগিন রোডে মিরাজ শাহ (Miraj Shah)-এর বাসভবনে পৌঁছন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। তাঁর বাড়িতে আয়কর দফতরের হানা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল (TMC)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, মিরাজ শাহ পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে প্রস্তাবকদের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। সেই কারণেই এই তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনার পরই তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। দলের দাবি, ভোটের মুখে বিরোধীদের চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তল্লাশি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিযোগ শাসকদলের।
বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর দফতরের অভিযান গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।”
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, নির্বাচনী ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দিতে এবং ভোটের আগে চাপ সৃষ্টি করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে আয়কর দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবে যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তার একজন প্রস্তাবক হলেন মিরাজ শাহ। তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের । ভোট থেকে নজর ঘোরাতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে এসব করা হচ্ছে বলে রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ।
শুক্রবার ভোর থেকেই তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও অফিসে অভিযান শুরু করে আয়কর দফতর। আধিকারিকরা একযোগে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান। কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার দফতরে ইডি হানা দিয়েছিল। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুরসভার সহায়তায় একাধিক এলাকায় জমি দখল করে নির্মাণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেবাশিস কুমারের এলাকার মধ্যেও এমন কিছু নির্মাণ হয়েছে। সেই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরেই আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পদক্ষেপ করেছিল। পরে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথিপত্র-সহ তাঁকে তলব করা হয়।
সেই মামলার সূত্র ধরেই এদিন আয়কর দফতরের অভিযান বলে জানা যাচ্ছে। দেবাশিস কুমারের বাড়ি, অফিসের পাশাপাশি তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। একই দিনে কালীঘাটে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও হানা দেন আয়কর আধিকারিকরা।
এদিকে একই তদন্তে এবার ভবানীপুরেও পৌঁছয় আয়কর দফতর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক মিরাজ শাহর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তিনি ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। সূত্রের খবর, গত পাঁচ থেকে দশ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি হয়েছিল।
ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচনের আবহে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কখনও প্রার্থীদের ডাকা হচ্ছে, কখনও মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকের বাড়িতে অভিযান চলছে। কুণালের দাবি, বিজেপি বুঝে গিয়েছে তারা বড় ব্যবধানে হারতে চলেছে বলেই এমন পদক্ষেপ করছে।”


