নয়াদিল্লি: ‘মহিলা সংরক্ষন আইন’ (Women’s Reservation Act) নিয়ে সংসদীয় অধিবেশনে ধুন্ধুমার! বৃহস্পতিবার এই নিয়ে তুমুল বিরোধিতা জানিয়েছে বিরোধীরা। যাঁদের অভিযোগ, জনগণনার অপেক্ষা না করেই তাড়াহুড়ো করে এগোতে চাইছে কেন্দ্র। এদিকে, শুক্রবার বিকেল ৪ টেয় এই বিল নিয়ে ভোটাভুটির কথা। তার আগেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ‘নারীশক্তির’ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বিতর্কের সূত্রপাত আদপে মহিলা সংরক্ষণ আইন ২০২৩ থেকেই। ২০২৩-এর মহিলা সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণের (Women’s Reservation Act) কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই আইনটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে এই আইন কার্যকর হলেও, এখনই আসন সংরক্ষণ (Women’s Reservation Act) শুরু হচ্ছে না। কারণ, এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করছে আগামী জনগণনা ও ডিলিমিটেশন (সীমা পুনর্নির্ধারণ) প্রক্রিয়ার উপর। সেই কারণে ২০২৯ সালের আগে এই সংরক্ষণ বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, কিছু “প্রযুক্তিগত কারণে” আইনটি (Women’s Reservation Act) এখন কার্যকর করা হয়েছে, তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আইন কার্যকর হলেও বর্তমান লোকসভা বা বিধানসভায় এখনই মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব নয়।
এর কারণ, এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে আগে জনগণনা ও ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) সম্পন্ন করতে হবে। তাই আপাতত আইন কার্যকর হলেও বাস্তবে এর সুবিধা পেতে আরও সময় লাগবে। এদিকে, সংসদে এই আইন কীভাবে ও কবে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঠিক এই সময়েই আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এত তাড়াহুড়ো করে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ফলে, আইন কার্যকর হলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।


