33 C
Kolkata
Friday, April 17, 2026
spot_img

“যখন যা খুশি তাই করবেন ?”: পোলিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে কোর্টের রোষানলে কমিশন !

Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের ঠিক আগে ফের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড়সড় আইনি জট। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রফেসরদের পোলিং অফিসার (Polling Officer) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতেই শুরু হয় বিতর্ক। এই প্রেক্ষিতেই কমিশনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিশনকে তাদের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে, নচেৎ আদালত নিজস্ব রায় দেবে।

বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্নে বিচারপতির অসন্তোষ

শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কি ইচ্ছামতো বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে? তিনি বলেন, “আপনারা যা খুশি বিজ্ঞপ্তি জারি করছেন। তা হলে বিচারকদেরও পোলিং অফিসার (Polling Officer) হিসেবে নিয়োগ করুন, আমরাও বুথে গিয়ে কাজ করব।” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কমিশনের নিজস্ব নথিতেই অসঙ্গতি রয়েছে এবং নিয়ম বদলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট।

যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটের ঠিক আগে মামলা হওয়ায় নতুন করে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এই যুক্তি খারিজ করে বিচারপতি বলেন, “এটি কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। আদালত যদি এখন না দেখে, পরে দেখার সুযোগ থাকবে না।” তিনি আরও সতর্ক করেন, আদালত যদি এই ধরনের বিষয়ে চোখ বুজে থাকে, তবে ভবিষ্যতে অনিয়ম চলতেই থাকবে।

ভোট থেমে যাওয়ার আশঙ্কা কমিশনের 

কমিশন দাবি করে, এই মুহূর্তে পোলিং অফিসার (Polling Officer) নিয়ে হস্তক্ষেপ হলে ২৩টি জেলায় নতুন করে নিয়োগ করতে হবে এবং তাতে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। এছাড়া, SIR-এর কাজে ইতিমধ্যেই বিচারিক আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তি মেনে নিতে হবে, এটা হতে পারে না।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হতে পারে এবং সেখানে কমিশনকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে।

পর্যাপ্ত রিজার্ভ কর্মী থাকলেও এই সিদ্ধান্ত কেন ?

মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, কমিশনের হাতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ কর্মী রয়েছে, তাদেরই কাজে লাগানো উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষ ক্ষমতায় সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের ব্যবহার করলেও অন্য আদালতের সেই ক্ষমতা নেই।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের বিজ্ঞপ্তির পক্ষে যুক্তি দিতে হবে। তা না হলে আদালত নিজস্ব রায় দেবে। ফলে আজকের শুনানিতে কমিশন কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন