Aaj India Desk, কোচবিহার : বিধানসভা নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার কোচবিহারের দিনহাটার সভা থেকে আবারও NRC ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার রক্ষায় নতুন বার্তা দিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি।
নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা
সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সব গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং তাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণের সময় মতুয়াদের এমনভাবে লিখতে বলা হচ্ছে যাতে তারা নিজেদের বিদেশি হিসেবে স্বীকার করে নেয়। তাঁর কথায়, “এভাবে ভুল করলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।”
এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হাজার হাজার মতুয়ার ভোট বাদ গেছে। রাজবংশীদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ রয়েছে। কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে না, বাংলার মানুষ বাংলাতেই থাকবে।” তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কাউকে জোর করে কোথাও থেকে উৎখাত করার কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না।
অমিত শাহকে পরোক্ষ জবাব
সভা থেকে NRC নোটিস পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা। সম্প্রতি ‘অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরোক্ষভাবে জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এভাবে কেউ কাউকে তাড়াতে পারবে না। বাংলায় সবাই সম্মানের সঙ্গে থাকবে।”
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক কৌশল
নির্বাচনের আগে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে NRC ও নাগরিকত্ব ইস্যু আবারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই ইস্যু শুধু প্রশাসনিক বা আইনি বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি ভোটের সমীকরণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার-সহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নাগরিকত্বের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কাকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। একদিকে যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল নাগরিকত্ব রক্ষার আশ্বাস দিয়ে প্রান্তিক ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে চাইছে। ফলে এই ইস্যু ক্রমশ ‘ভোট ব্যাংকের খেলা’-য় পরিণত হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। কোন দল কতটা সফলভাবে এই বার্তা ভোটারদের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারে এবং তার ভিত্তিতে ভোটের মেরুকরণ কতটা ঘটে, সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


