নয়াদিল্লি: আগামী তিন দিনে সংসদ (Parliament Session) কাঁপাতে চলেছে তিনটি বিতর্কিত বিল। যেখানে কেন্দ্র সরকার দাবী করছে, নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ (Women Reservation) কার্যকর করার লক্ষ্যে এই বিলগুলো অপরিহার্য। অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, এগুলো গুরুতর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে ধরছে।
কি কি বিল?
প্রথম প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনী বিলে লোকসভার আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। যার মধ্যে রাজ্যগুলি থেকে সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ৮১৫টি আসন। এছাড়াও ৩৫টি আসন থাকবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য। এছাড়া, এই বিলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভার আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হল, ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন’, ‘জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন’ এবং ‘জিএনসিটি দিল্লি আইন’-এ পরিবর্তন আনা। যার লক্ষ্য হল, নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং বিধানসভার আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আনা।
তৃতীয় প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, একটি নতুন ‘সীমানা নির্ধারণ আইন’ প্রণয়ন। যার আওতায় এই পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ভারতের সীমানা নির্ধারণ কমিশন’ (Delimitation Commission of India) গঠন করা হবে।
‘আসন সমন্বয়’ নিয়ে বিতর্ক
তবে লোকসভায় ‘আসন সমন্বয়’ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। যার মূল দুটি কারণ হল, জনসংখ্যা গণনার ভিত্তি কী হবে এবং কোন রাজ্যগুলি প্রতিনিধিত্ব হারাতে পারে। উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানের ৮১ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, লোকসভার আসন বণ্টন জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং জনগণনার তথ্য অনুযায়ী তা পরিবর্তন করা যেতে পারে।
তবে ২০০১ ও ২০০৩ সালের সংশোধনের পর, ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস স্থগিত রাখা হয়েছিল ২০২৬ সালের পর প্রথম জনগণনা না হওয়া পর্যন্ত। নতুন প্রস্তাবিত বিলে এই ‘স্থগিতাবস্থা’ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোন জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন বণ্টন হবে, তা সংসদ আইন করে নির্ধারণ করতে পারবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, “এই অনুচ্ছেদে ‘জনসংখ্যা’ বলতে সেই জনগণনার তথ্যকে বোঝাবে, যা সংসদ আইন দ্বারা নির্ধারণ করবে এবং যার প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।”
মহিলারা কি সংরক্ষণ পাবেন?
প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ কার্যকর হবে শুধুমাত্র ডিলিমিটেশন (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর। অর্থাৎ, আগে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে ডিলিমিটেশন করতে হবে, তারপরই সংরক্ষণ চালু হবে।
এছাড়া বলা হয়েছে, সর্বশেষ প্রকাশিত জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই এই সংরক্ষণ নির্ধারিত হবে। ফলে দুটি প্রশ্ন এখনও অনির্দিষ্ট! ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ হতে কত সময় লাগবে এবং কোন জনগণনার তথ্য ব্যবহার করা হবে। এদিকে, বিভিন্ন মহিলা সংগঠন, সাংসদ ও আইনজীবীদের একটি আবেদন জানিয়েছে যে সংরক্ষণকে ডিলিমিটেশন থেকে আলাদা করা উচিত, কারণ নির্দিষ্ট ৩৩% কোটা জনসংখ্যার পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল নয়।


