Aaj India Desk, দার্জিলিং : গোর্খা সমস্যাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের প্রকাশ্যে এল। দার্জিলিংয়ের সভা থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
দিল্লিতে তিনবার বৈঠক ডেকেও সাড়া মেলেনি
গোর্খা ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ দাবি করেন, সমস্যার সমাধানে গত দেড় বছরে তিনি নিজে দিল্লিতে তিনবার বৈঠক ডাকলেও মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। এমনকি, রাজ্যে এসে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতেও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার কথায়, “মমতা দিদি চান না পাহাড়ের গোর্খা মানুষ ন্যায় বিচার পাক। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করব, তারা তাদের অধিকার পাবে।”
রাজনৈতিক মামলা দায়েরের প্রথা বন্ধ করার আশ্বাস
গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৫ তারিখে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন করে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।” গোর্খাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসও দেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করার কথাও বলেন। শাহর বক্তব্য, “গণতন্ত্রে আন্দোলন দমন করতে ভুয়ো মামলা করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, বিজেপি তা বন্ধ করবে।”
গোর্খা ভোটব্যাঙ্ক আদায়ের প্রচেষ্টা
উল্লেখ্য, দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং-এর তিনটি পাহাড়ি বিধানসভা আসনে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। গোর্খাল্যান্ডের দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি রাস্তা, পানীয় জল, পর্যটন ও চা বাগানের মজুরি-সহ দৈনন্দিন উন্নয়নের ইস্যু এখন ভোটারদের মূল আলোচনায়। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোমবার গাজোলের জনসভায় তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে অখণ্ড রেখেই গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান করা হবে। দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আজ ১৫ এপ্রিল লেবংয়ের গোর্খা স্টেডিয়ামে ফের তাঁর জনসভা হওয়ার কথা ছিল। ক্রমাগত গোর্খা সমস্যার কথা তুলে ধরে বিজেপির গোর্খা ভোটব্যাঙ্ক আদায়ের প্রচেষ্টা স্পষ্ট হলেও GTA (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এর অভিযোগ, কেন্দ্র এখনও পাহাড়ের প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। এই অসন্তোষও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, গোর্খা ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজ্যের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া, এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।


