Aaj India Desk, কোচবিহার : নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা ED ও আয়কর দপ্তরের (IT) একাধিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কোচবিহারের সভা থেকে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃনমূল প্রার্থীদের বাড়ি তল্লাশি
শুক্রবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আয়কর দপ্তরের (IT) একটি দল দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃনমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে পৌঁছয়। একই সময়ে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, প্রার্থীর শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। দেবাশিস কুমারকে তাঁর বাড়িতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিনই দক্ষিণ কলকাতারও আরেক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইডির তল্লাশির খবরও সামনে আসে।
কেন্দ্রকে তোপ মমতার
কোচবিহারের রাশমেলা ময়দানে নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বিজেপি সরকারের নিন্দা করে স্পষ্ট বলেন, “এরা নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল। ভীতু, কাপুরুষ। এরা সরাসরি সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না। তাই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে।”
সাথে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কী হল?” নোটবন্দির মাধ্যমে কালো টাকা ভারতে ফেরানোর মোদীর প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আজ কালো টাকার হুন্ডি নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে বসে আছে আর তৃনমূল প্রার্থীর বাড়িতে হানা দিচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহারের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, আয়কর (IT), ইডি ও সিবিআই সব সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চাওয়া হচ্ছে। তাঁর প্লেন থেকে শুরু করে অভিষেকের গাড়ি পর্যন্ত তল্লাশি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এই ধরনের পদক্ষেপে আমরা মাথা নত করব না।”
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ আরও তপ্ত হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় শাসক দলের সরব অবস্থান, দুই মিলিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা ও তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া রাজ্যের ভোটের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


