Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদ কথায় সহজ, কিন্তু আইনের চোখে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। এবার সেই বিষয়েই স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট ( Supreme Court of India)।
শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, একবার যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য সম্মতি দেন এবং সেই অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে পরে আর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। অর্থাৎ, তখন আর কোনও পক্ষই দাবি করতে পারবেন না যে তিনি বিচ্ছেদে রাজি নন।তবে আদালত এটাও পরিষ্কার করেছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে অর্থাৎ ডিক্রি জারি হওয়ার আগে পর্যন্ত সম্মতি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকে। কিন্তু যখন দুই পক্ষ বিবাদ মিটিয়ে চূড়ান্ত ভাবে বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে যান, তখন আর পিছু হটার রাস্তা বন্ধ।
এই মামলায় বিচারপতি রাজেশ বিন্দল (Rajesh Bindal ) এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই (Vijay Bishnoi)-এর বেঞ্চ জানায়, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তকে পরে বদলানোর সুযোগ দিলে আইনি জটিলতা বাড়বে এবং বিচার প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সোজা কথায়, বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তি যখন পারস্পরিক সম্মতিতে পাকা হয়ে যায়, তখন সেই সিদ্ধান্তই শেষ কথা এমনটাই স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
দিল্লির এক বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালত -অনুমোদিত মধ্যস্থতার মাধ্যমে যখন দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছে যায়, তখন সেই চুক্তি থেকে হঠাৎ সরে আসা এত সহজ নয়। শুধু মন পরিবর্তন করলেই চলবে না তার জন্য জোরালো কারণ দেখাতে হবে।আদালতের মতে, তিনটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই কেবল চুক্তি ভাঙার সুযোগ থাকতে পারে এক, যদি প্রমাণ করা যায় যে প্রতারণা হয়েছে; দুই, যদি দেখানো যায় জোর করে বা চাপ দিয়ে চুক্তি করানো হয়েছে; তিন, যদি অপর পক্ষ চুক্তির শর্ত মানেনি। এই তিনটির কোনওটিই প্রমাণ করা না গেলে, চুক্তি থেকে সরে আসার চেষ্টা করা পক্ষের উপর জরিমানা চাপানোর কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, আদালতের তত্ত্বাবধানে হওয়া মধ্যস্থতা আসলে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেই পথকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেললে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট হবে। তাই অযথা পিছিয়ে আসার প্রবণতায় লাগাম টানতেই এই কঠোর অবস্থান এমনটাই বার্তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের।
২০০০ সালে বিবাহ, দুই সন্তানের জন্ম প্রায় কুড়ি বছর শান্তিপূর্ণ সংসারের পর সম্পর্কের ভিত নড়ে যায়। দাম্পত্যকলহ বাড়তে থাকায় ২০২২-২৩ সালে স্বামী, স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ওঠে পারিবারিক আদালতে, যেখানে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানেই নাটকীয় মোড়। পরে সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান স্ত্রী। শুধু তাই নয়, স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও আনেন তিনি। এই অবস্থায় স্বামী দ্বারস্থ হন দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)-এর। তবে উচ্চ আদালত মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
এর পরই লড়াই পৌঁছে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করে, গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগটি মূলত আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবেই আনা হয়েছে। সেই যুক্তিতেই অভিযোগ খারিজ করে দেয় আদালত।এক কথায়, দীর্ঘ দাম্পত্যের টানাপোড়েন থেকে আইনি লড়াই আর সেই লড়াইয়ে আদালতের কড়া বার্তা, আইনকে হাতিয়ার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা যাবে না।


