Aaj India Desk, কলকাতা : আগামী সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোট। এর ঠিক আগে নন্দীগ্রামের এক নির্বাচনী সভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানাল তৃনমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রামের একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমার পাশে একজন মোল্লা আছে, সাবধান থাকুন!” এই মন্তব্যকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ শাসকদলের।
আইনি ধারা উল্লেখ করে চিঠি
তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেছেন, এই মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বিষয়টি একইসাথে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির ৪.৩.১ ধারা এবং জন প্রতিনিধিত্ব আইন (RPA)-এর ১২৩(৩এ) ধারার পরিপন্থী। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারারও লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
তৃণমূলের তিনটি মূল দাবি
তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি পদক্ষেপ চেয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য ‘শো-কজ’ নোটিশ এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কড়া ব্যবস্থা। তৃণমূলের দাবি, একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতা এমন মন্তব্য করলে তা অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও একই প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদৌ পদক্ষেপ নেবে কমিশন ?
এখন গোটা রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তৃণমূল কংগ্রেসের এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় এবং তার ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন সাধারণত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। তবে এর আগে একাধিকবার বিজেপির বি টিম হিসেবে কমিশনের নাম উঠে আসায় আদৌ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা সে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ফলে, এই ঘটনাকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী আবহে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।


