কোচবিহার: ভোটের মুখে কেন সংসদে ডিলিমিটেশন (Delimitation) বিল? এই নিয়ে ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গের শাসকশিবির। শুক্রবার কোচবিহারের জনসভায় এই নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মুতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “আমি এখানে সভা করছি, তখন ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছে। এইকারনে আমাকে নির্বাচন ছেড়ে ২১ জন সাংসদকে লোকসভায় পাঠাতে হয়েছে”।
বলা বাহুল্য, কেন্দ্রের ডিলিমিটেশন বিল, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির। শুক্রবার বিকেল ৪ টেয় এই নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এদিকে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশুক্রবার কোচবিহারের রাসলিমা ময়দান থেকে সুর চড়ালেন তিনি (Mamata Banerjee)। বললেন, এই বিলের মাধ্যমে ‘দেশকে টুকরো করার চেষ্টা করা হচ্ছে’।
মমতা বলেন, “নিজেরা জানে হারবে, ৫৪১ সিট আছে, তাই ওটা ৮৫০-র কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য টুকরো টুকরো করছে দেশটাকে। একদিন দেখবেন কোচবিহারটাই হারিয়ে গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, শিলিগুড়িটাই হারিয়ে গিয়েছে।”
উল্লেখ্য, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪৩ থেকে ৮৫০ করতে চাইছে কেন্দ্র। যা নিয়ে ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ তুলেছে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। একইসঙ্গে প্রতিটি রাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নতুন করে ডিলিমিটেশন (Delimitation) বা আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর ফলে একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
এই প্রক্রিয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও। প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪১-এ পৌঁছতে পারে, অর্থাৎ, অর্থাৎ প্রায় ১৪৭টি আসন বৃদ্ধি। এর ফলে আগামী কয়েক দশকের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।


