SPECIAL FEATURE
স্নেহা পাল, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Election) নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হুমায়ুন কবীর। এই আগেও জাতীয় রাজনীতিতে বহু পরিচিত নেতা একাধিক কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। এই অবস্থায় এক প্রার্থীর একাধিক কেন্দ্রে দাঁড়ানো আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
Representation of the People Act, 1951 অনুসারে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুটি কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে (Election) দাঁড়াতে পারেন। তবে একাধিক কেন্দ্রে জয়ী হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি আসন ছাড়া বাকি আসন ছাড়তে হয়। ফলে শূন্য আসনে উপনির্বাচন করতে হয়, যা বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করে।
জাতীয় স্তরে বহুবার এই প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গান্ধীনগর ও বারাণসী দুটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে পরে গান্ধীনগর আসন ছেড়ে দেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী কেরলের ওয়েনাড় ও উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ের পর তিনি ওয়েনাড় আসন ছেড়ে রায়বেরেলি ধরে রাখেন।
আর্থিক চাপ ও প্রশাসনিক প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে সরকারি ব্যয় ছিল প্রায় ₹৬,৯৩১ কোটি। উপনির্বাচনের জন্য ব্যয় হয় অতিরিক্ত ₹১৩০ কোটি। পাশাপাশি বারবার উপনির্বাচনের ফলে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়, কারণ মডেল কোড অব কন্ডাক্ট বারবার কার্যকর করতে হয়। অর্থাৎ একটি উপনির্বাচন মানে নতুন করে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালানো, যার জন্য বিপুল টাকা খরচ হয়। ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মূল নির্বাচনের পর উপনির্বাচনে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই অর্থ আসলে করদাতাদের পকেট থেকেই আসে, যা উন্নয়নমূলক কাজ যেমন রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতে ব্যবহার করা যেত।
ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ন
পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার ফলে ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রার্থী জিতে একটি আসন ছেড়ে দিলে সেই এলাকার ভোটাররা কার্যত তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে হারান। এতে একদিকে যেমন “এক ব্যক্তি, এক ভোট” নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তেমনই মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। বড় নেতারা একাধিক কেন্দ্র থেকে লড়লে দলীয় প্রভাব বাড়ে এবং ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি “প্যারাশুট প্রার্থী” তৈরি করে যা স্থানীয় নেতৃত্বকে দুর্বল করে এবং শাসক দলের পক্ষে উপনির্বাচনে সুবিধা তৈরি করে।
প্রয়োজন নির্বাচন সংস্কার ?
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন (Election) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা কঠিন। একাধিক কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার ফলে যে আর্থিক চাপ, প্রশাসনিক বিঘ্ন এবং ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।তবু এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নীরবতা এবং যথাযথ পদক্ষেপের অভাব জন্ম দিচ্ছে একাধিক প্রশ্নের। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনকে আইনি সংশোধনের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ জোরদার করা, ‘এক প্রার্থী এক কেন্দ্র’ নীতি চালুর পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় উপনির্বাচনের খরচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর উপর চাপানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি, ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।


