চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন নয়, সময়ের দলিল! সমাজের অন্ধকার কোণ উন্মোচনের এক নির্ভীক মাধ্যম। যেখানে এক অদৃশ্য আতঙ্ক প্রতিবাদের গলা টিপে ধরে, সেখানেই ক্যামেরা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। কিন্তু এই সত্য উচ্চারণই কখনও কখনও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গোষ্ঠীর কাছে। অপ্রিয় বাস্তবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা নতুন নয়, বরং ইতিহাস জুড়েই এর পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।
কি আছে The Voice of Hind Rajab-এ?
তিউনিসীয় চিত্র পরিচালক কাউথার বেন হানিয়া পরিচালিত ডকু-ড্রামা দত ভয়েস অব হিন্দ রাজাব (The Voice of Hind Rajab) এক পাঁচ বছরের প্যালেস্তানিয় শিশু কন্যা হিন্দ রাজাবকে ৩৩৫ টি বুলেটে ঝাঁজরা করে দেওয়ার নগ্নতাকে তুলে ধরে। গাজার উপর ইজরালেয়ের নারকীয় অত্যাচার, প্যালেস্তানীয় রেড ক্রসেণ্ট সোসাইটি-র সদস্যরা কীভাবে জীবন বাজি রেখে সংঘর্ষের মাঝখানে আটকে পড়া রাজাব এবং তার ১৫ বছরের খুড়তুতো বোনকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন, সেই লড়াইই এখানে উঠে এসেছে। গোলাগুলির মধ্যে মানবিকতার শেষ আলোটুকু ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা ছবিটিকে কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং বৃহত্তর সংঘাতের নির্মম বাস্তবতার প্রতীক করে তুলেছে।
মুক্তি পেলে কি হবে?
অস্কার মরশুমে মার্চের মাঝামাঝি সময়েই ছবিটি মুক্তির কথা ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দয় ভয়েস অব হিন্দ রাজাব ছবির পরিবেশক সেন্সর বোর্ডকে (CBFC) ২৭ ফেব্রুয়ারি ছবিটি দেখান। কাকতালীয়ভাবে তার ঠিক একদিন আগে ইজরায়েল সফর সেরে দেশে ফেরেন নরেন্দ্র মোদী। পরিবেশক জানান, তাঁকে পরবর্তীকালে বলা হয়, ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে নাকি ভারত-ইজরায়েল বন্ধুত্বের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অভিঘাত যে সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে, তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ, দয় ভয়েস অফ হিন্দ রাজাব (The Voice of Hind Rajab)। অস্কার-মনোনীত এই ছবির নির্ধারিত মুক্তির আগেই তা আটকে দিয়েছে সেন্সর বোর্ড (CBFC)। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি কেবল সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর কারণে সতর্কতা, নাকি বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণের ছায়া পড়েছে শিল্পের স্বাধীনতার ওপর?


