কলকাতা: এসআইআরের ডামাডোলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ (Election Date) যেন সবচেয়ে বড় সাসপেন্স! পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় (SIR) প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় “ডিলিটেড”। পাশাপাশি ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” বা বিবেচনাধীন। এই ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট (Election Date) কীভাবে প্রকাশিত হবে? এমনকি বিধানসভা ভোট পিছিয়ে যেতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
এই আবহে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। বস্তুত, চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গ সহ অসম, তামিলনাড়ু, কেরলম এবং পন্ডিচেরীতেও বিধানসভা ভোট। কমিশন সূত্রে খবর, এই পাঁচ রাজ্যে মোটামুটি একই সময়ে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ মার্চ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে মোট কত দফায় ভোট হবে, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজ্যে নেমে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের (SIR) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরদিনই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১ মার্চ রাজ্যে ২৪০ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এরপর গত ১০ মার্চ রাজ্যে আসে আরও ২৪০ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকাকে ‘স্পর্শকাতর’, ‘অতি স্পর্শকাতর’ চিহ্নিত জায়গায় রুট মার্চ করেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অশান্তির চরম সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবী করে আসছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগণা, কোচবিহার, জলপাইগুড়িতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
দুই দফায় ভোট?
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রে মত দুই দফায় ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন কমিশনের এক আধিকারিক। জানা গিয়েছে, তৃণমূল ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দুই দফায় ভোটের ক্ষেত্রেই সম্মতি জানিয়েছে। দুই দফায় ভোট হলে হিংসার সম্ভাবনা কিছুটা কম হতে পারে, বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিনক্ষণ (Election Date) ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।


