Aaj lndia Desk,কলকাতা: একটা পুরো দিন কেটে গেল। রাজ্যের এক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব কুরবানির ঈদ পালিত হল রাজ্যজুড়ে। অথচ বাংলার মানুষ এদিন একটা জিনিস খুঁজে পেল না মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা।
বিগত কয়েক বছর ধরে উৎসব মানেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা, সম্প্রীতির বার্তা, ছবি, ভিডিও সবই দেখা গিয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রোফাইলে। দুর্গাপুজো থেকে বড়দিন, ছটপুজো থেকে পয়লা বৈশাখ প্রতিটি উপলক্ষেই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু রাজ্যের পালাবদলের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)সেই ধারাবাহিকতা ভাঙলেন ঈদে কোনরকম শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করলেন না তিনি। তাহলে কি তিনি ভুলে গিয়েছেন? নাকি এটা ইচ্ছাকৃত নীরবতা?
যখন রাজ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তাপ, তখন একজন মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি এর পিছনে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা? কারণ, একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি দলের নন, তিনি গোটা রাজ্যের মুখ। সেখানে একটি সম্প্রদায়ের উৎসবে শুভেচ্ছা না জানানো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষের মনে।
অনেকেই প্রশ্ন করছেন, তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আবারও প্রমাণ করলেন তিনি মুসলিমদের প্রতি বিরূপ? বিরোধীদের দাবি, “এটা শুধুই ভুলে যাওয়া নয়, বরং একটি সচেতন রাজনৈতিক অবস্থান। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতেই কি এই নীরবতা?”আবার অনেকের মত, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট না করলেই কাউকে মুসলিম বিরোধী বলা যায় না। কিন্তু রাজনীতিতে বার্তার গুরুত্ব অনেক। আর সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নীরবতা এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।
ঈদের শুভেচ্ছাবার্তা নেই, উল্টে কুরবানির ঈদের দিনই মায়াপুর সফরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর আগেও ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে ২১ শে মার্চ ঈদের সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফলে প্রশ্ন উঠছেই এ কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি সচেতন রাজনৈতিক বার্তা?
অনেকের মতে, মুসলিমদের উৎসবের দিনেই বারবার হিন্দুত্বের প্রকাশ্য বার্তা দিয়ে আসলে মেরুকরণের রাজনীতিই করছেন শুভেন্দু?একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানে সব সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার কথা, সেখানে ঈদে নীরবতা এবং মন্দিরমুখী রাজনীতি অনেকের কাছেই স্পষ্ট পলিটিক্যাল সিগন্যাল। তাহলে কি শুভেন্দু আবারও বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রেই রয়েছে হিন্দুত্বের কার্ড?


