Aaj India desk, অন্ধ্রপ্রদেশ: ভারতে জনসংখ্যা নীতি নিয়ে নতুন এক বিতর্কের সূচনা করল অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh)। কন্যাশ্রী বা বিবেকানন্দ স্কলারশিপের মতো সামাজিক প্রকল্পের পর এবার কি তবে “সন্তান নিলেই প্রণোদনা”র নীতি? অন্ধ্রপ্রদেশ (AndhraPradesh) সরকারের প্রস্তাবিত নতুন জনসংখ্যা খসড়া নীতি ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে।
সরকারের এই Population Draft Policy অনুযায়ী, একের বেশি সন্তান নিলে পরিবারকে আর্থিক প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং আরও কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) প্রস্তাবিত জনসংখ্যা নীতিতে ঠিক কত টাকা দেওয়া হবে, সেটাও সরকার খসড়ায় জানিয়েছে।
1.দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান হলে এককালীন ₹২৫,০০০ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
2.এই টাকা সন্তান জন্মের সময়ই দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও কিছু সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে—
3.তৃতীয় সন্তানের জন্য মাসে ₹১,০০০ করে ৫ বছর পর্যন্ত ভাতা
তার সাথে সাথে-
1.১৮ বছর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা
2.সরকারি হাসপাতালে সাবসিডি সহ IVF চিকিৎসা
3.মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ মাস, বাবার জন্য ২ মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি
শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র ও কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল তৈরির পরিকল্পনা সরকারের যুক্তি হল, অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) বর্তমানে Total Fertility Rate প্রায় ১.৫, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১-এর থেকে কম। তাই জন্মহার বাড়াতে এই আর্থিক প্রণোদনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এটি এখনও ড্রাফট পলিসি (খসড়া নীতি)। জনমত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তারপরই পুরো পরিকল্পনা চালু হবে। অর্থাৎ এখনই পুরো স্কিম চালু হয়নি।
মূল লক্ষ্য একটাই—রাজ্যে ক্রমশ কমতে থাকা জন্মহার বা fertility rate বাড়ানো। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক উন্নত দেশেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই আগেভাগেই সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এই নীতি নিয়ে ভাবছে রাজ্য সরকার।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে, সেখানে এবার কি উল্টো পথে হাঁটছে সরকার? ভারতের কিছু রাজ্যে এখনও জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে জন্মহার দ্রুত কমছে। তাই স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী নীতি বদলানোই সরকারের উদ্দেশ্য হতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে—যদি সত্যিই সন্তান নিলে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়, তবে কি ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়া নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাবে? কন্যাশ্রী বা বিবেকানন্দ স্কলারশিপের মতো সামাজিক প্রকল্পের পরে এবার কি তবে “ফ্যামিলি ইনসেনটিভ স্কিম”? সময়ই তার উত্তর দেবে।


