কলকাতা: দুর্গাপুজো শেষ, এবার কালীপুজোর (Kali Puja) পালা। তার পরেই জগদ্ধাত্রী পুজো, সঙ্গে ছটের মহা আয়োজন। উৎসবের মরশুমে মণ্ডপ থেকে ঘাট, সর্বত্রই উপচে পড়বে মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই ভিড়ই যদি হয়ে ওঠে বিপদের কারণ? আলো কম, বেরনোর রাস্তা সরু, মণ্ডপের ভিতরে ঠাসাঠাসি! চোরবাগানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার আগেভাগেই কোমর বাঁধছে রাজ্য প্রশাসন!
কালীপুজো (Kali Puja), জগদ্ধাত্রী পুজো এবং ছটকে সামনে রেখে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। স্পষ্ট বার্তা, উৎসবের আনন্দে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস নয়। মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। প্রবেশ ও বেরনোর রাস্তা হতে হবে চওড়া। কোনওভাবেই যাতে দর্শনার্থীদের ভিড় মণ্ডপের ভিতরে উপচে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকেই।
নবান্নের নির্দেশিকায় কী কী থাকছে? একনজরে দেখে নিন
মণ্ডপের নিরাপত্তা
- মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তা চওড়া রাখতে হবে।
- মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় জমতে দেওয়া যাবে না।
- ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।
- দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন করতে হবে।
- মণ্ডপে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অগ্নিনিরাপত্তা
- মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- দুর্ঘটনা ঘটলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দমকল যাতে পৌঁছতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘাটের নিরাপত্তা
- ছটপুজোর ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।
- ঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে।
- নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক।
- মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু তাই নয়, ভিড় সামলাতে রাখতে হবে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক। মণ্ডপের দর্শনার্থীর সংখ্যা বুঝে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে রাখতে হবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা। অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাতেও জোর দিয়েছে প্রশাসন। কোনও বিপদ ঘটলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দমকল যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, সেই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
নিরাপত্তার নজর শুধু মণ্ডপে আটকে নেই, রয়েছে ঘাটেও। ছটপুজোয় ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা রাখতে হবে। নৌকায় রাখতে হবে লাইফ জ্যাকেট। মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করতে হবে।
অর্থাৎ এবার শুধু পুজোর (Kali Puja) আলোয় মণ্ডপ সাজালেই চলবে না, নিরাপত্তার আলোও জ্বালাতে হবে। চোরবাগান কাণ্ডের শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনের এই বাড়তি সতর্কতা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। কারণ উৎসবের ভিড়ে এক মুহূর্তের অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। আনন্দের উৎসব যেন কোনওভাবেই আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে না থাকে, এটাই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!


