Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) FZ1073 বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলায় গুরুতর জখম হয়েও ককপিটের (Cockpit) দরজা খুলে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন ওমানি সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত (Captain Smith) মাচ্ছার। তাঁর সাহসিকতার পর এবার সামনে এসেছে আরও দুই পাইলটের ভূমিকার কথা। তাঁরাই শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণে সাহায্য করেন।
ঘটনার সময় FZ1073 বিমানটি আকাশপথে ছিল। আচমকাই বিমানের ভিতরে হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে কিছু সময়ের জন্য বিমানের নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দেয় এবং বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নীচে নেমে যায়।
আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি স্মিত। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ নিয়েও কোনওভাবে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। এরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দরজা খোলার পর যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এরপরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট। তাঁরা সেই সময় যাত্রী হিসেবেই বিমানে ছিলেন এবং ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরাই ককপিটের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন। তাঁদের সহযোগিতাতেই শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। বিমানের কোনও যাত্রী আহত হননি বলে জানা গিয়েছে।
তবে ওই দুই পাইলটের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কীভাবে তাঁরা ওই বিমানে ছিলেন, সেই বিষয়টিও এখন আলোচনায়। বিমান পরিবহণের ভাষায় এই ধরনের ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘ডেডহেডিং’। ‘ডেডহেডিং’-এর ক্ষেত্রে কোনও পাইলটকে তাঁর পরবর্তী দায়িত্ব পালনের জন্য যাত্রী হিসেবে অন্য একটি বিমানে পাঠানো হয়। সেই যাত্রার সময় তিনি বিমান চালানোর দায়িত্বে থাকেন না। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কর্মী এবং প্রয়োজন হলে তাঁর দক্ষতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
FZ1073 বিমানে কেন অতিরিক্ত দুই পাইলট ছিলেন, তারও একটি কারণ রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সময় আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বিমানটির নির্ধারিত রুট বদলাতে হতে পারে বা যাত্রাপথ দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেক্ষেত্রে বিমানের দায়িত্বে থাকা মূল দুই পাইলটের অনুমোদিত ডিউটির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই অতিরিক্ত পাইলটদের বিমানে রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
পাইলটদের অতিরিক্ত ক্লান্তি যাতে না হয়, তার জন্য বিমান পরিবহণে ফ্লাইট ডিউটি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। একজন পাইলট বা ক্রু সদস্য কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেই সময়সীমা এই নিয়মে নির্ধারিত হয়।
ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-র নিয়মেও ডিউটি সময়ের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনও বিমান সংস্থার নির্দেশে একজন ক্রু সদস্যকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলেও, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সময় ডিউটির হিসেবের মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে পরবর্তী ফ্লাইটের আগে যদি পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকে, তাহলে সেই যাত্রার সময়ও ফ্লাইট ডিউটি পিরিয়ডের অংশ হিসেবে ধরা হয়।
ফলে মাঝ আকাশে ঘটে যাওয়া ওই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতার পাশাপাশি বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা দুই পাইলটের উপস্থিতিও শেষ মুহূর্তে বড় ভূমিকা নিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।


