Aaj India Desk, কলকাতা: এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakoli Ghosh Dastidar) সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার (Om Birla) কাছে আপত্তি জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আগেই আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তার আগেই কীভাবে তাঁকে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান করা হল, তা নিয়েও স্পিকারের কাছে জবাব চেয়েছেন অভিষেক।
শনিবার সার ও রাসায়নিক বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম ঘোষণা করেন ওম বিড়লা। এর আগে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ। একইসঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকেও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে মমতা তৃণমূলের কোনও সাংসদই আর থাকলেন না।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে অভিষেকের বক্তব্যও শুনেছিলেন স্পিকার। তবে এখনও সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্পিকার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। এর মধ্যেই ওই ২০ সাংসদের অবস্থান জানতে তাঁদের নোটিস পাঠিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন এনসিপিআই সাংসদরা।
এই পরিস্থিতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, সংসদের নথিতে এখনও ওই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আগেই সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মমতা তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কীভাবে চেয়ারম্যান করা হল, তা জানতে চেয়েছেন অভিষেক।
কোন দলের সাংসদ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে, চিঠিতে সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। একইসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত সংসদীয় নিয়ম ও রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই কাকলিকে চেয়ারম্যান করার নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মমতা তৃণমূলকে কোনও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতিকেও চিঠি দিয়েছেন রাজ্যসভায় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘সংসদ গভীর অন্ধকার চেম্বারে পরিণত হয়েছে।’


