Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা আসন দখলে এবার জোর লড়াই। উপনির্বাচনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) জেতা এই আসন নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া বিজেপি (BJP)। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরকে উন্নয়নের মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী—দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যেই রেজিনগরে প্রচার করেছেন। ফলে এই আসনটি বিজেপির কাছে কার্যত সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, রেজিনগরের দখল ধরে রাখতে এবার নিজের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম শিবিরও প্রার্থী দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মূল লড়াই হতে পারে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ এবং বিজেপির মধ্যে।
রেজিনগরে বড় ফ্যাক্টর মহিলা ভোট
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৪৯০ জন, অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৪৭ শতাংশ। তাই এই বিপুল মহিলা ভোটই উপনির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোট প্রচারে গিয়ে রেজিনগরের মানুষের উন্নয়নের পাশাপাশি একাধিক বিষয় তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এলাকার বহু মহিলা এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে উন্নয়ন দেখতে চাইছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। হাসপাতাল, কলেজ, কর্মসংস্থান—এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার তালিকায় রয়েছে এই বিষয়গুলি। বিশেষ করে পরিবারের পুরুষদের কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় মহিলাদের। তাই এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের অনেক সমস্যাই কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
কেন ক্ষোভ রয়েছে মহিলাদের একাংশের?
রেজিনগরে মহিলাদের ক্ষোভের পিছনে পুরনো রাজনৈতিক ঘটনাও রয়েছে। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন হুমায়ুন। পরের বছরই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন হুমায়ুন।
২০২৬ সালে নওদার পাশাপাশি রেজিনগর থেকেও জয় পান তিনি। কিন্তু পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ফলে বারবার দলবদল এবং নির্বাচিত হওয়ার পর আসন ছেড়ে দেওয়া নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার একাংশের ক্ষোভ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
রেজিনগরের বেশ কিছু সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলার অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময় তাঁরা সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাড়ি, বার্ধক্য ভাতা বা করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্যের রেশন—কোনওটাই ঠিকমতো পাননি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিস্থিতিও আশানুরূপ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মসংস্থানের সমস্যা। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনেকেই কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ায় বাড়ির দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে মহিলাদেরই। ফলে সংসার চালানো থেকে শুরু করে সন্তানদের দেখাশোনা—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরের উপনির্বাচনে পুরুষ ভোটের পাশাপাশি মহিলা ভোটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই বিপুল মহিলা ভোট কোন দিকে যায়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করতে পারে রেজিনগরের ফলাফল।


