Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি : দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারত ও কানাডার (India-Canada) সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কানাডা (Canada) সফর করতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (Mark Carney) জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। একইসঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যেও দুই দেশ কাজ করছে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কার্নি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কানাডার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা আলোচনা নিয়েও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কানাডায় স্বাগত জানানোর জন্য তিনি আগ্রহী বলেও জানান।
৫ অক্টোবর থেকে ফের বাণিজ্য আলোচনা
ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA)। এই চুক্তি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হতে চলেছে ৫ অক্টোবর। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) জানিয়েছেন, ৫ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কানাডায় এই দফার বৈঠক চলবে। আলোচনায় অংশ নিতে ভারতীয় প্রতিনিধিরা কানাডা সফর করবেন।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার চতুর্থ দফা শেষ হয়। গোয়েলের বক্তব্য, আগামী ৯০ দিন ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে দুই পক্ষের।
শুধু বাণিজ্য চুক্তি নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধু (Maninder Sidhu) সম্প্রতি মুম্বই সফরে এসে পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ফের বাড়ছে।
নিজ্জর-কাণ্ডের পর বদলাচ্ছে পরিস্থিতি
২০২৩ সালে কানাডায় হরদীপ সিং নিজ্জর (Hardeep Singh Nijjar) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারত ও কানাডার সম্পর্কে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (Justin Trudeau) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতীয় এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ তুলেছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেখা যায়।
তবে ট্রুডোর পর মার্ক কার্নি (Mark Carney) কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলানোর উদ্যোগ শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চে কার্নি ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন কার্নি।
২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য
ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আগামী দিনে সেই অঙ্ক আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখেছে দুই দেশ।
ভারত থেকে কানাডায় মূলত ওষুধ, ইস্পাত, সামুদ্রিক খাদ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্য রফতানি হয়। অন্যদিকে কানাডা থেকে ভারতে আসে ডাল, কয়লা, সার, কাগজ এবং অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের মতো পণ্য।
ফলে অক্টোবরের CEPA আলোচনা এবং ডিসেম্বরের সম্ভাব্য মোদী সফর দুই ঘটনাই ভারত-কানাডা সম্পর্কের আগামী গতিপথের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে, বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশ কত দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছতে পারে এবং মোদীর সম্ভাব্য কানাডা সফর দুই দেশের সম্পর্ককে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়।


