Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: একদিকে দলত্যাগ বিরোধী আইনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), শতাব্দী রায়দের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল (TMC)। অন্যদিকে, লোকসভার স্পিকারের পাঠানো নোটিসের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময় চাইতে হয়েছে ওই সাংসদদের। এর মধ্যেই তাঁরা যে দল অর্থাৎ এনসিপিআইয়ে (NCPI) যোগ দিয়েছেন, সেই দলের নতুন জাতীয় কমিটি তৈরি করেছেন কাকলি, শতাব্দী-সহ তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সাংসদরা।
এই কমিটি গঠন নিয়েই এবার আপত্তি তুললেন এনসিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে (Santanu Dey)। নতুন কমিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, এনসিপিআইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তৃণমূল থেকে আসা সাংসদরা।
শান্তনু দে-র বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নতুন কমিটি তৈরি করার আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে বা দল তৈরির সময় যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কারও সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে তিনি নিজে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বলে দাবি করেন। ত্রিপুরায় দলের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সদস্যও একই বিষয়ে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নতুন জাতীয় কর্মসমিতিতে সভাপতি হিসেবে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু। তাঁর দাবি, দলের সঙ্গে যুক্ত পুরনো সদস্যদের কাছে এই নামটি পরিচিত নয়। এমনকি এনসিপিআইয়ের নিজস্ব পেজেও ওই ব্যক্তির পরিচয় বা ছবি সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে অভিযোগ তাঁর।
শান্তনুর দাবি, প্রায় চার বছর আগে, ২০২২ সালে এনসিপিআই তৈরি করেছিলেন তাঁরা। তিনি নিজে দলের জাতীয় সম্পাদক (সংগঠন) পদে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে দল থেকে সরানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল থেকে আসা সাংসদদের বিরুদ্ধে দল দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি দলের নিয়ম ও আইন মেনে হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
শান্তনু আরও বলেন, এনসিপিআইয়ে সাংসদরা যোগ দিলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁদের দলটিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন, যে সাংসদরা এনসিপিআইয়ে এসেছেন, তাঁরা তো অন্য দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে সাংসদ হয়েছেন। তাহলে এনসিপিআইয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে তাঁদের যোগ কতটা, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
সবশেষে শান্তনুর বক্তব্য, মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যেই তাঁরা এনসিপিআই তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অধিকারই যদি উপেক্ষিত হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।


