গান্ধীনগর: এটিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উত্থানের রাজ্য, গুজরাট। নারীশিক্ষা ও কন্যাসন্তান রক্ষার বার্তা বহনকারী ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের অন্যতম মুখও গুজরাট। অথচ সেই রাজ্যেরই বনাসকাঁঠা জেলার ছোট্ট ভাদিয়া গ্রামের নির্মম বাস্তব জানলে শিউড়ে উঠবেন (Gujrat prostitute village) যেখানে মেয়েদের শৈশব আজও আটকে আছে এক নির্মম সত্যে, বাল্যবিবাহ, না হলে যৌনপেশা।
মাত্র ৭৫০ জনের এই গ্রামে বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম যৌন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের বক্তব্য, পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই হাইওয়ে থেকে খদ্দের নিয়ে আসেন, আর বাড়ির মহিলারা ঘরের অন্দরেই সেই পেশায় যুক্ত থাকেন (Gujrat Prostitute Village)।
“আমাকে এই জীবনে নামতে দেননি মা”
১৯ বছরের এক তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর মা ও দিদা দু’জনেই যৌনকর্মী ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, বাবা ও কাকা তাঁদের জন্য খদ্দের আনতেন। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে সেই চক্র থেকে বাঁচাতে ১১ বছরেই তাঁর বাগদান এবং ১৮ বছরে বিয়ে দেন মা। আজ তিনি নার্সিং পড়ছেন, তাঁর কাছে শিক্ষা মানে নতুন জীবনের সম্ভাবনা।
এক মায়ের কঠিন স্বীকারোক্তি
চন্দ্রা সারনিয়া ১৫ বছর বয়সে যৌনপেশায় নামতে বাধ্য হয়েছিলেন (Gujrat Prostitute village)। তিনি বলেন, নিজের মেয়ের বাল্যবিবাহ চাননি। কিন্তু গ্রামের রীতি ও সামাজিক চাপ তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাঁর কথায়, “বিয়ে না দিলে মেয়েকেও এই পেশায় নামতে হতো।”
অন্ধকার ভেদ করার চেষ্টা
গত কয়েক বছরে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গণবিবাহ, শিক্ষা ও বিকল্প জীবিকার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের দাবি, ১৬০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৯০টি পরিবার যৌন ব্যবসা ছাড়ার পথে এগিয়েছে। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, কন্যাসন্তান রক্ষার জাতীয় স্লোগান যখন সর্বত্র উচ্চারিত, তখন প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্যের এই গ্রামে কেন এখনও এত মেয়ের ভবিষ্যৎ দারিদ্র্য আর প্রথার কাছে বন্দি?
ভাদিয়ার লড়াই তাই শুধু একটি গ্রামের (Gujrat Prostitute village) নয়! এটি সেই সব মেয়েদের গল্প, যারা জন্মগত পরিচয়ের বদলে নিজের জীবনের অধিকার ফিরে পেতে চায়।


