Aaj India Desk, কলকাতা: হাজিরার নিয়ম নিয়ে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে (Surendranath Law College) ছাত্রবিক্ষোভ, উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং পরে গঙ্গাজল-ধূপ জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’এর ঘটনায় এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তুভ বাগচী। সদ্য প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুমের অভিযোগ, ৪০ শতাংশের কম হাজিরা থাকা পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার কড়া সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিলেন কৌস্তুভই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক সহায়তা না দিয়ে সরে যান বলেও অভিযোগ। যদিও সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কৌস্তুভের পাল্টা অভিযোগ, দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই কলেজের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কড়া নিয়মের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উপাধ্যক্ষের
উপাধ্যক্ষের দাবি, গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কৌস্তুভ বাগচীই ৪০ শতাংশের নীচে হাজিরা থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার বিষয়ে লিখিত রেজোলিউশন দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়েই পড়ুয়াদের একাংশের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়। তরন্নুমের বক্তব্য, তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়ম মেনেই হাজিরার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের জামানায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলতেন সেটাই নিয়ম ছিল, কোনও নিয়মকানুন মানা হত না। কিন্তু এ বার আমি নিয়ম মানতে চেয়েছিলাম।”
তরন্নুমের অভিযোগ, ছাত্ররা তাঁকে আটকে রাখার পর (Surendranath Law College) তিনি কৌস্তুভকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানান। কিন্তু বিধানসভা ও রাজনৈতিক কাজের কথা বলে সভাপতি কলেজে আসতে অস্বীকার করেন বলে দাবি তাঁর। এর পর বার কাউন্সিলের ৭৫ শতাংশ ও ৬৫ শতাংশ হাজিরা সংক্রান্ত পৃথক নিয়মের একটি ই-মেল শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছয় বলেও দাবি করেছেন তরন্নুম। তাঁর অভিযোগ, এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং কৌস্তুভ সেখান থেকে সরে যান।
তরন্নুমের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে অন্ধকার ঘরে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পাল্টা যুক্তি দিয়ে দায় এড়ালেন কৌস্তভ
তরন্নুমের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কৌস্তুভ বাগচী। তাঁর বক্তব্য, কলেজে (Surendranath Law College) ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির নিয়ম থাকলেও পঠনপাঠন এবং অনলাইন মূল্যায়নের ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না। ফলে হাজিরার ঘাটতির জন্য পড়ুয়াদের একতরফাভাবে দায়ী করা যায় না।
কৌস্তুভের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ঠিক করা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, যাতে পড়ুয়ারা পরীক্ষায় বসতে পারে এবং কলেজে স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশ ফেরে, সেই পদক্ষেপই তিনি করবেন।
পাশাপাশি প্রাক্তন উপাধ্যক্ষের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৌস্তুভ। তিনি বলেন, “উনি কীভাবে কলেজ চালিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুকুর-ছাগলের মতো কী ধরনের দুর্ব্যবহার করেছেন, তা দু’দিন গেলেই বোঝা যায়। শিক্ষার্থীদেরও তো আবেগ ও মান-সম্মান আছে।” কৌস্তুভ আরও অভিযোগ করেছেন, তরন্নুমের সময় ক্লাসরুম ও কমন রুম ভেঙে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বসার ঘর তৈরি করা হয়েছিল। অন্য সরকারি আইন কলেজগুলির তুলনায় বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এমনকী কলেজে অতীতে খাটের বিছানা এবং গর্ভনিরোধক সামগ্রী উদ্ধারের কথাও বলেছেন কৌস্তুভ। তাঁর অভিযোগ, কলেজে কী ধরনের অনিয়ম চলেছে, তা উপাধ্যক্ষ জানতেন। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, কৌস্তুভ বাগচীর ভূমিকা, কলেজের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসার ভবিষ্যৎ সব মিলিয়ে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।


