Aaj India Desk, কলকাতা:কলকাতায় ফিরেছিলেন দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর। প্রত্যাবর্তনের সেই আবেগঘন মুহূর্তে রবীন্দ্র সদনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতা, নির্বাসন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ নিয়ে কথা বলেছিলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। সেই বক্তব্যই এবার পৌঁছে গেল স্কুলের পরীক্ষার খাতায়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির বাংলা মিড টার্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘আনসিন’ বা বোধপরীক্ষণ অংশে রাখা হয়েছে তসলিমার সেই বক্তব্যের একটি অংশ।
বিষয়টি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ। কারণ যে শহর থেকে একসময় তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল, সেই কলকাতায় তাঁর ফিরে আসার অভিজ্ঞতাই এবার পড়ুয়াদের বাংলা পরীক্ষার গদ্যাংশের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রবীন্দ্র সদনে প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছিলেন তসলিমা
গত মাসে কলকাতায় এসে রবীন্দ্র সদনে নিজের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। সেখানে কলকাতায় ফেরার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানান, নিজের ভাষার শহরে ফিরতে তাঁর প্রায় দুই দশক সময় লেগেছে। একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে আসার জন্য পুলিশের সাহায্যের প্রয়োজন হওয়াকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেও উল্লেখ করেন।
তসলিমার বক্তব্যে উঠে আসে বাকস্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গও। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে বক্তব্য রাখতে তিনি কলকাতায় আসেননি। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে।
সেই অনুষ্ঠানে তসলিমা আরও বলেন, ভয় কিংবা নিষেধাজ্ঞা কোনওটাই চিরস্থায়ী নয়। বন্ধ দরজাও চিরকাল বন্ধ থাকে না। নিজের জীবনের সঙ্গে যে আগস্ট মাসের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কাছে অগস্ট একদিকে জন্মের মাস, অন্যদিকে নির্বাসনের মাস। আর এবার সেই মাসই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে প্রত্যাবর্তনের মাস।
‘আমি দিব্যি দশম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে ঢুকে পড়েছি!’
রবীন্দ্র সদনের সেই বক্তব্যই পরে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার ‘আনসিন’ অংশে জায়গা পায়। বিষয়টি জানতে পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়াও জানান তসলিমা। রসিকতার সুরে তিনি লেখেন, এতদিন তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া, শহর থেকে সরিয়ে দেওয়া, তাঁর বই নিষিদ্ধ করা কিংবা তাঁর লেখা পড়তে না দেওয়ার মতো নানা কথা শুনতে হয়েছে। অথচ এবার দেখা যাচ্ছে, তিনি দিব্যি দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ঢুকে পড়েছেন।
যে কলকাতা একসময় তাঁর নির্বাসনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল, সেই কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের কথাই এখন পড়ুয়াদের পরীক্ষার গদ্যাংশ। এই ঘটনাকে তসলিমা জীবনের এক ধরনের রসিকতা হিসেবেই দেখেছেন।
শেষে তাঁর বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ মানুষকে নির্বাসনে পাঠানো সম্ভব হলেও কোনও লেখাকে এত সহজে নির্বাসিত করা যায় না। সাউথ পয়েন্টের বাংলা প্রশ্নপত্রে তাঁর বক্তব্য জায়গা পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তসলিমা নাসরিনের লেখা, তাঁর নির্বাসন এবং কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের গল্প।


