Aaj lndia Desk ,মুর্শিদাবাদ: ফরাক্কায় রেলপথে ধসের কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, এবার তা স্বাভাবিক হবার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর শনিবার নতুন করে নিরাপত্তা যাচাই শুরু করেছে রেল। পরীক্ষার ফল অনুকূলে থাকলে রাতের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সংস্কার করা অংশের অবস্থা বোঝার জন্য রেলের বিশেষ পরিদর্শনকারী যান ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু লাইনের উপরিভাগ নয়, ট্রেনের চাপ সামলানোর ক্ষমতাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সেই কারণে কম গতিতে মালবাহী ট্রেন চালিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন রেলের কর্মীরা। প্রতিটি পর্যায়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইঞ্জিনিয়াররা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করবেন।
রেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষায় কোনও ত্রুটি ধরা না পড়লে এবং ইঞ্জিনিয়াররা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিলে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর অনুমতি মিলতে পারে। তবে পরিষেবা পুনরায় শুরু হলেও প্রথম দিকে ওই অংশে ট্রেনের গতি কম রাখা হবে। পরিকাঠামোর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার পর ধীরে ধীরে গতিসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার ফরাক্কার কাছে রেলপথের একটি বড় অংশে হঠাৎ মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৮০ মিটার এলাকার ট্র্যাকের অবস্থান বেশ খানিকটা নীচে নেমে যায়। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে রেল। এর জেরে উত্তরবঙ্গমুখী এবং দক্ষিণবঙ্গমুখী একাধিক পরিষেবা বাতিল হয়।
৫ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ২২৩০১ হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত, ১৩০৫৩ হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস এবং ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বরের ১২৩৪৬ গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেসও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
পরিবর্তিত রুটে চালানো হয়েছে ১৬৫২৪ বালুরঘাট-এসএমভিবি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, ১৭০৩২ আগরতলা-চারলাপল্লি এক্সপ্রেস, ১৩১৭৫ শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, ১৬২২৩ এসএমভিবি বেঙ্গালুরু-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস এবং ১৫৯২৯ তাম্বরম-নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস। এখন পরীক্ষামূলক চলাচলের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ। সবকিছু নিরাপদ প্রমাণিত হলে শনিবার রাত থেকেই পরিষেবা ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই।


