Aaj India Desk, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টে লোকসভার স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta)। এর মধ্যেই তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বিজেপি নেতৃত্বের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এনসিপিআইয়ের লোকসভা নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দাবিকে সামনে রেখে এবার সরাসরি আইনি প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সুদীপের বক্তব্য ঘিরেই নতুন বিতর্ক
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। ২৫ আগস্টের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে জানান, ২০ সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আবেদনের বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর পরেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে।
সুদীপ জানিয়েছেন, ২০ সাংসদের বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের তরফে তাঁকে তুষার মেহতার (Tushar Mehta) সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই অনুযায়ী সন্ধ্যায় সলিসিটর জেনারেলের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে। সুদীপ আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দফতরের সঙ্গে যোগাযোগের পর সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। রিজিজু তাঁকে জানান, তুষার মেহতা বিষয়টি দেখছেন।
স্বার্থ সংঘাতের প্রশ্ন কুণালের
এই বক্তব্যকেই সামনে রেখে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। যে মামলায় তুষার মেহতা স্পিকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করছেন, সেই একই বিষয়ে অভিযুক্ত ২০ সাংসদ তাঁর সঙ্গে কীভাবে পরামর্শ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন কটেনবি তিনি। কুণাল অভিযোগ করেছেন, এর মধ্যে বিজেপি এবং লোকসভার স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি একই মামলায় দুই বিপরীত পক্ষের হয়ে কোনও আইনজীবী কাজ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে ওই ২০ জন সাংসদকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অভিষেকের মামলা ও কল্যাণদার সওয়ালে ধোপার বাড়ি যাওয়া বিশ গদ্দারের দিশাহীন অবস্থা। বিজেপির বিরোধী ভোটে জিতে দিল্লি গিয়ে এখন বিজেপির পায়ে বাঁচার চেষ্টা করছে।”
তবে কুণালের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তুষার মেহতা (Tushar Mehta) বা দলবদলু সাংসদদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। আপাতত সাংসদের দলত্যাগের মামলা যেমন আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে, তেমনই তুষার মেহতার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও তীব্র হচ্ছে।


