Aaj lndia Desk,বীরভূম: কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে পৌঁছে মা তারার পুজো করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।। শুভেন্দুর কথায়, পূর্ববর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বারবার ‘না’ শোনা যেত। বর্তমান সরকারের কাজের ধরন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। মানুষের প্রয়োজন এবং উন্নয়নের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষেই বর্তমান সরকার বলে দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, ‘আগের সরকারের নীতি ছিল নো নো নো, আর বর্তমান সরকারের মন্ত্র হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ।’
তারাপীঠে বছরের অন্যতম বড় ধর্মীয় আয়োজন কৌশিকী অমাবস্যা। এই বিশেষ তিথিতে মা তারার দর্শনের জন্য প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা নয়, দেশের একাধিক রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও ভক্তরা তারাপীঠে আসেন। তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাতায়াত এবং পুণ্যার্থীদের অন্যান্য পরিষেবা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যায় দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মা তারাকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের বিষয়টিও প্রশাসনের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
শ্রাবণী মেলা এবং রথযাত্রার সময় প্রশাসনের তরফে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই আসন্ন উৎসবের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে কৌশিকী অমাবস্যার আয়োজনকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানান তিনি।
তারাপীঠ সফরে বীরভূমের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জেলার নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখেই উন্নয়নের কাজ এগোবে। মা তারার তীর্থক্ষেত্র, বাউল সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বীরভূমকে ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
নিজের বিভিন্ন তীর্থভ্রমণের কথাও এ দিন তুলে ধরেন শুভেন্দু। কালীঘাট, জলপাইগুড়ির জলপেশ, তারকেশ্বর-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তারাপীঠে এসে মা তারাকে প্রণাম করার ইচ্ছাটিও এ দিন পূর্ণ হয়েছে।


