Aaj lndia Desk, কলকাতা: পুজো মানেই বাঙালির কাছে শুধু নতুন জামা, ঢাকের বাদ্যি আর ঠাকুর দেখা নয় পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেটপুজোরও এক দীর্ঘ ইতিহাস। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত কোথায় কষা মাংস, কোথায় বিরিয়ানি, কোথায় ডিমের রোল ঠাকুর দেখার ফাঁকে রসনাতৃপ্তির হিসেবও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এবার সেই ভোজনরসিক বাঙালির কপালে যেন একটু চিন্তার ভাঁজ! কারণ দুর্গাপুজোর মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবারের দোকান রাখা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা VHP।
সংগঠনের বক্তব্য, মণ্ডপ এবং প্রতিমার আশপাশের পরিবেশ পবিত্র রাখা প্রয়োজন। তাই পুজোর সময় মাংস, মাছ, ডিম-সহ আমিষ খাবার বিক্রি হলে তা যেন মণ্ডপ চত্বরের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্বে হয়। অর্থাৎ ঠাকুর দেখতে গিয়ে যদি কারও নাকে ভেসে আসে কষা মাংসের গন্ধ, তাহলে এবার সেই ‘আধ্যাত্মিক পরীক্ষা’ থেকে বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি!
তবে VHP স্পষ্ট করেছে, বাংলার মানুষকে পুজোর সময় আমিষ খাওয়া ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে না। ঐতিহ্যগতভাবেই বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে আমিষ খাবারের যোগ রয়েছে। আপত্তি মূলত মণ্ডপের আশপাশে সেই খাবারের বিক্রি এবং উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকা নিয়ে।
শুধু খাবার নয়, পুজোর থিম নিয়েও সংগঠনের আপত্তি রয়েছে। শিল্পের স্বাধীনতা থাকলেও ‘আর্ট’-এর নামে এমন কোনও বিষয় মণ্ডপে আনা উচিত নয়, যার সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও সম্পর্ক নেই এমনটাই মত VHP নেতৃত্বের। ডিম কিংবা জুতোর মতো বিষয়কে থিম হিসেবে ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
প্রতিমার ক্ষেত্রেও ‘আধুনিকতা’ মানা যেতে পারে, তবে মাতৃত্ব, শালীনতা এবং দুর্গার ঐতিহ্যবাহী রূপ বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছে সংগঠনটি। দশ হাতে অস্ত্রের বদলে অদ্ভুত কিছু ধরিয়ে দেওয়া বা প্রচলিত রূপ আমূল বদলে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে।
ফলে এবারের পুজোয় ঠাকুর দেখার পাশাপাশি বাঙালির আরও একটি প্রশ্ন মণ্ডপের কাছে পেটপুজোর প্লেটটা কি আদৌ মিলবে? উত্তর মিলবে শারদোৎসবের মাঠেই!


