Aaj India Desk, মালদহ: রাখির দিন (Rakhi Purnima) পৈতৃক বাড়িতে ফিরে পরিবারের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন ৬০ বছরের ব্যবসায়ী অর্ণব সেন ( Arnab Sen)। তাঁদের হাতে রাখিও পরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দের রাতই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠল। নিজেরই দূর সম্পর্কের নাতি এবং তার বন্ধুর হাতে খুন (Murder) হতে হল তাঁকে। ঘটনাটি মালদহ শহরের ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির।
খুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার কিনারা করে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম শুভজিৎ ঘোষ (২২) এবং কৌশিক ঘোষ ওরফে পচা (২২)। শুভজিৎ নিহত অর্ণব সেনের দূর সম্পর্কের নাতি বলে জানা গিয়েছে।
চা খাওয়ার পরই টাকার দাবি
অর্ণব সেন কলকাতার বাসিন্দা এবং হলুদের ব্যবসা করতেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। মালদহে তাঁর বোন, ভাগ্নে এবং নাতি-নাতনিরা থাকেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে মাঝেমধ্যেই মালদহে আসতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে অর্ণববাবুর ঘরে যায় শুভজিৎ ও কৌশিক। কিছুক্ষণ গল্প করার পর তারা চা খেতে চায়। অর্ণববাবু নিজেই ইন্ডাকশনে চা বানিয়ে দু’জনকে খাওয়ান।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করে দুই যুবক। অর্ণববাবু টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। প্রথমে মুখে বালিশ চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। খুনের পরও থামেনি তারা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘরের আলমারি ও অন্যান্য জিনিসপত্র তছনছ করে টাকা ও গয়না খোঁজা হয়।
চায়ের কাপেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
শুক্রবার সকালে অর্ণব সেনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘরে ঢুকে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। দেখা যায়, ইন্ডাকশনটি তখনও চালু রয়েছে। পাশাপাশি টেবিলের উপর পড়ে ছিল চা খাওয়ার দু’টি কাপ।
এই দুই কাপ থেকেই পুলিশের ধারণা হয়, অর্ণববাবুর পরিচিত কেউই তাঁর ঘরে এসেছিল এবং একাধিক ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এরপর নিহতের মোবাইল ফোনের খোঁজ শুরু হয়। ফোনটির টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, সেটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে শুভজিৎ ও কৌশিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে অর্ণববাবুর খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
অনলাইন গেমের দেনা মেটাতেই কি খুন?
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রাথমিকভাবে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত। তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইন গেমে আসক্তির কারণে দু’জনেরই বড় অঙ্কের টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভজিতের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা এবং কৌশিকের প্রায় ১ লক্ষ টাকা দেনা ছিল। সেই টাকা মেটানোর জন্যই অর্ণব সেনের কাছে টাকা চেয়েছিল তারা। কিন্তু টাকা না পাওয়ার পর তাঁকে খুন করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।


