Aaj lndia Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল বিশেষ কমিশন। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে বসে কমিশনের প্রথম বৈঠক। মূল ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বৈঠকটি সল্টলেকে করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকের আগে তিনি জানান, তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও একটি পক্ষের বক্তব্যের উপর নির্ভর করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য, নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। কারা কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য জানাবেন, সেই তালিকা ও পদ্ধতিও আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে যে সমস্ত নথি কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সেগুলিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য থাকলে, কমিশন তা গ্রহণ করবে বলেও চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। ফলে তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
তদন্ত দ্রুত শেষ করার ইচ্ছা রয়েছে কমিশনের। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি কতদিন চলবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ কতগুলি নথি পাওয়া যাচ্ছে এবং কতজনের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন হচ্ছে, তার উপর সময় নির্ভর করবে। সব তথ্য একত্র করার পর সেগুলি যাচাই ও বিশ্লেষণ করেই কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে।
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও পৌঁছেছে বিষয়টি। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগ তুলে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য, এর ফলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি নজরদারি, পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগে আদালতের নির্দেশ থাকলেও তার বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী।
এই মামলার জরুরি শুনানি আগামী সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে হওয়ার কথা। ফলে একদিকে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট, অন্যদিকে আদালতের সম্ভাব্য নির্দেশ যাদবপুরের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।


