কলকাতা: রাত পোহালেই যুব তৃণমূলের সমাবেশ! তার আগেই ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসে তুলকালাম! বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে তৃণমূলকর্মীদের তুমুল বচসা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশকর্মীদের ধাক্কা, জামা ধরে টানাটানি, চড়-ঘুসির অভিযোগও সামনে এসেছে।
কলকাতা পুরসভার দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসের বিল্ডিংয়ের ছাদে লাগানো বিশাল হোর্ডিংটি বেআইনি এবং বিপজ্জনকভাবে বসানো হয়েছিল। সেই হোর্ডিং সরাতেই নোটিস নিয়ে পুলিশকে সঙ্গে করে সেখানে পৌঁছন পুরকর্মীরা।
অভিযোগ, অফিসে ঢোকার সময়ই বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। তৃণমূলকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের শুরু হয় তর্কাতর্কি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশকর্মীকে হেনস্থার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনাস্থলে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পরে অফিসের সামনে থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, নিজেদের পার্টি অফিসে তাঁদেরই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুরসভার নোটিস এবং পরিদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে পুরসভার বক্তব্য, ফুটপাথের উপর বেআইনিভাবে লাগানো বিলবোর্ডটি সরানো জরুরি ছিল। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই আধিকারিকরা সেখানে গিয়েছিলেন।
ধস্তাধস্তির পর আটক ৩
ঘটনার জেরে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে হেনস্থা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগে শেক্সপিয়র থানার পুলিশ তিনজনকে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশি নিরাপত্তা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যামাক স্ট্রিট চত্বরে তৃণমূলকর্মীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।শেষপর্যন্ত বিতর্কিত বিলবোর্ড খোলার কাজ শুরু হয়। পুরসভার কর্মীরা বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে হোর্ডিং সরানোর ব্যবস্থা করেন।
যুব তৃণমূলের বড় সমাবেশের প্রাক্কালে খোদ অভিষেকের দফতরে এই সংঘাত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে পুরসভার দাবি, বেআইনি ও বিপজ্জনক হোর্ডিং সরানোই ছিল উদ্দেশ্য; অন্যদিকে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) পাল্টা প্রশ্ন, পুরসভার নোটিস ও অভিযান কতটা আইনসঙ্গত? ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


