Aaj lndia Desk, কলকাতা: নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্বেগ আরও বাড়ছে। প্রবল বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে দেশের একাধিক এলাকা বিপর্যস্ত। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৮৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজের সংখ্যাও আটশো ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বৃহস্পতিবার তাঁদের নাম ও ঠিকানা-সহ তালিকা প্রকাশ করেছে নবান্ন।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার ছয়জন রয়েছেন। বিধাননগর কমিশনারেটের তিনজন এবং কলকাতা পুর এলাকার চারজনও রয়েছেন তালিকায়। পাশাপাশি হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান এবং দার্জিলিংয়ের কয়েকজন বাসিন্দার নামও রয়েছে। দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ফোনে সাড়া না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
কীভাবে বিপদের মধ্যে পড়ল এই দল? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে ৩২ জনের দল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। ২২ অগস্ট তারা নেপালে পৌঁছয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু তার আগেই ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দেয়। তারপর থেকেই ওই দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল প্রশাসন এবং কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভবানীভবনে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে কোনও নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, নেপালে বিভিন্ন রাজ্যের ভারতীয় নাগরিকরা বিপদের মধ্যে রয়েছেন। তালিকা অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, কেরলের ৩৩ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন এবং অন্যান্য রাজ্যের আরও ৬১ জন সেখানে আটকে রয়েছেন। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ৭৩ জন ভারতীয় শ্রমিকেরও এখনও সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের পরিবারের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে একাধিক যোগাযোগ নম্বর চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার ও সন্ধানকার্যের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।


