Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি:গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে স্বীকার করলেও সেটিকে সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের মর্যাদা দেওয়া যায় না ১০০ দিনের কাজের মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।
কাজের অধিকার নিয়ে কী বলল আদালত?
১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা এবং বর্তমানে চালু হওয়া ১২৫ দিনের জিরামজি প্রকল্পের মতো কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের প্রকল্পে কাজ পাওয়াকে মৌলিক অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
২০২০ সালে সমাজকর্মী অরুণা রায়, নিখিল দে এবং ললিত মাথুর মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ১০০ দিনের কাজে শ্রমিকদের মজুরি দিতে দেরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ন্যূনতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবিধানের কোন দিক তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুক্রবার জানায়, ভারতীয় সংবিধান কাজের অধিকারকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির অংশে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট মজুরিতে কাজের সুযোগ তৈরির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করবে সংবিধানের সেই ভাবনাকেই আদালত তুলে ধরে।
প্রশান্ত ভূষণের যুক্তি কী ছিল?
মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের পরিধির মধ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, শ্রমিকদের ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি না দেওয়া কার্যত তাঁদের দিয়ে শোষণমূলকভাবে কাজ করানোর শামিল। তবে এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়নি আদালত।
ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আদালতের অবস্থান
সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করেছে, ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি ও এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বিচারবিভাগের নির্দেশে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। কারণ, কাজের ধরন এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর মজুরির পরিমাণ নির্ভর করতে পারে। নির্দিষ্ট হারে মজুরি বেঁধে দিলে উল্টে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন প্রকল্প নিয়ে ফের মামলা করার পরামর্শ
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সম্প্রতি ১০০ দিনের প্রকল্পের পরিবর্তে ১২৫ দিনের জিরামজি প্রকল্প চালু করেছে। নতুন আইনের বিভিন্ন ধারা ও পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাকারীদের নতুন করে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছেন, নতুন মামলা করতে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে তাঁর আবেদন, যেহেতু বিষয়টি শ্রমিকদের ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত, তাই বর্তমান মামলাতেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হোক।


