Aaj lndia Desk, কলকাতা: শিলংয়ের বৃষ্টিভেজা মাঠে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাজিমাত মোহনবাগানের। নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল সবুজ-মেরুন। আর এই জয়ের সঙ্গেই তৈরি হল বহু প্রতীক্ষিত মহারণ রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল।
বৃষ্টিতে ভিজল ম্যাচ, গোল এল না
শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল কৌশলনির্ভর ফুটবল। ঘরের মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মোহনবাগানের রক্ষণভাগ বেশিরভাগ সময়ই তা সামলে নেয়। পাল্টা সবুজ-মেরুনও গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে সাফল্য আসেনি।
এর মধ্যেই বৃষ্টিতে আরও কঠিন হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মাঠের বিভিন্ন অংশে জল জমে যাওয়ায় বল নিয়ন্ত্রণ, পাস এবং ট্যাকল সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়েন ফুটবলাররা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও ম্যাচের ফল না মেলায় সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায় লড়াই।
পেনাল্টিতে ত্রাতা বিশাল কাইথ
টাইব্রেকারে আবারও মোহনবাগানের ভরসা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দুটি পেনাল্টি রুখে দেন তিনি। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সেই শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সবুজ-মেরুন। ম্যাচজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভের পাশাপাশি শুটআউটেও দলকে বাঁচিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন বিশাল।
তিন বছর পর ফের ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বি
মোহনবাগানের এই জয়ের ফলে ফের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতার দুই প্রধান। ২০২৩ সালে যুবভারতীতেই ডুরান্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল মোহনবাগান। তিন বছর পর একই মঞ্চে ফের মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
কার হাতে উঠবে ট্রফি?
ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে ১৭ বার ট্রফি জিতে সবচেয়ে সফল দল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ইস্টবেঙ্গলের ঝুলিতে রয়েছে ১৬টি ডুরান্ড কাপ। ফলে রবিবারের ফাইনাল শুধু ডার্বি নয়, ট্রফির সংখ্যার লড়াইও। মোহনবাগানের লক্ষ্য ১৮তম খেতাব ঘরে তোলা, আর ইস্টবেঙ্গল চাইবে ১৭তম ডুরান্ড জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের আরও কাছে পৌঁছতে। যুবভারতীতে তাই রবিবার শুধু একটি ফাইনাল নয়, বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক মহারণ।


