Aaj India Desk, কলকাতা : যাদবপুরের রাতের সংঘর্ষের রেশ কাটার আগেই মিললো রাজনৈতিক বার্তা। লড়াই এবার ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছল ভোটের ময়দানে। বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া তীব্র সংঘর্ষে SFI-র ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে ABVP-কে সরাসরি ছাত্রভোটে নামার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya)। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “গণতন্ত্রে এত ভয় কেন?”
কী ঘটেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে?
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের FETSU-র জেনারেল বডি মিটিংকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় সংঘর্ষ। বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ABVP-র সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে SFI-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই ইট-পাথর ছুঁড়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ও ভাঙচুরও করা হয়। দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হন।
কী জানালেন সৃজন ?
সৃজনের (Srijan Bhattacharya) দাবি, তিনি বর্তমানে কলকাতার বাইরে। বুধবার রাতে ঘটনার খবর পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কয়েকজন পড়ুয়া নিজেদের মধ্যে সাধারণ সভা করছিলেন। সেই সভায় ABVP-র সদস্যরা ঢুকে পড়ে পড়ুয়াদের হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। সৃজনের বক্তব্য, ঘটনার প্রথম পর্যায়ে সেখানে SFI-র কোনও সদস্য ছিলেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা। লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, রাতে অশান্তি তৈরি করে পড়ুয়াদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান সংঘর্ষে নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণার দাবি তুলেছেন সৃজন। তাঁর সরাসরি বার্তা, ABVP যদি মনে করে ক্যাম্পাসে তাদের সমর্থন রয়েছে, তাহলে ছাত্র নির্বাচনে লড়ে জয়ী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুক। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করার আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, সকল পক্ষেরই তা মেনে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, FETSU-রও অভিযোগ, ABVP এবং NSF-র সঙ্গে বহিরাগতরা বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায়। তবে এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে ABVP। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবির জেরে এখন যাদবপুরের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।


