Aaj India Desk, হাওড়া : ঝাড়গ্রামের পর ফের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেন সরকারি কর্মী। এবার হাওড়ার বানত্রা থানার সাব-ইনস্পেক্টর সুব্রত সরকারকে (Subrata Sarkar) ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় আটক করে রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ। একই অভিযানে পাঁশকুড়া থেকেও সাহাবুদ্দিন মল্লিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
১৫ হাজারের ঘুষ নিয়ে হাত লাল SI এর
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের অধীন বানত্রা থানায় কর্মরত সাব-ইনস্পেক্টর সুব্রত সরকারের (Subrata Sarkar) বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ পরিকল্পনা করে অভিযান চালায়। এরপর ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময়ই তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের আগে প্ল্যানমাফিক ঘুষের টাকায় বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল। সাধারণত এই ধরনের অভিযানে এভাবে ফেনলফথ্যালিন পরীক্ষার সাহায্যে টাকার সংস্পর্শে আসার প্রমাণ খোঁজা হয়। ঘুষের টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তের হাতে সেই রাসায়নিকের চিহ্ন পাওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এক্ষেত্রেও তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়ার পর জলে সুব্রত সরকারের (Subrata Sarkar) হাত ডোবানো হলে জল গোলাপি হয়ে যায়।
পাঁশকুড়ায় রক্ত বিক্রির অভিযোগ
অন্যদিকে, একইদিনে পাঁশকুড়ায় সাহাবুদ্দিন মল্লিক নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাঁশকুড়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রি করা হত। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঝাড়গ্রামেও একইভাবে অভিযান
এর আগে ঝাড়গ্রামের জামবনি BDO অফিসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ। অভিযুক্ত বিমল সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিচ্ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ছদ্মবেশে BDO অফিসে পৌঁছেছিলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। এরপর পরিকল্পিত অভিযানে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। IPS মুরলিধর শর্মার নেতৃত্বে এই শাখায় একাধিক IPS আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরপর কয়েকটি অভিযানে সরকারি দপ্তরে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারির ঘটনা সামনে আসায় নজরে এসেছে এই দুর্নীতি দমন অভিযান। এখন বানত্রা থানার SI সুব্রত সরকার ও পাঁশকুড়ার সাহাবুদ্দিন মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


