নয়াদিল্লি: রাত পোহালেই ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) উদযাপনে ভাসবে আপামর ভারতবাসী। লাল কেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ, ঐতিহাসিক দিনের প্রস্তুতিতে যখন গোটা রাজধানী কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া, ঠিক তখনই লালকেল্লা সহ, হাই কোর্ট, বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকি (Bomb Threat)! শুক্রবার একটি ই-মেল ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীতে। জানা গিয়েছে, ই-মেলের মাধ্যমে দিল্লি হাই কোর্ট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের মুহূর্তে এমন হুমকি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উদ্বেগ।
১৫ অগস্টকে (Independence Day) কেন্দ্র করে এমনিতেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ মোতায়েন। রাজধানীতে ঢোকা ও বেরনোর একাধিক পথে চলছে অতিরিক্ত নাকাতল্লাশি। ভিড় হতে পারে এমন এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং জনসমাগমের জায়গাগুলিতেও চলছে কড়া নজরদারি।
কারণ, স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) মূল অনুষ্ঠান এবারও লাল কেল্লাকে কেন্দ্র করে। সেখান থেকেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে গোটা এলাকা ঘিরেই রয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। আর ঠিক এমন সময়েই খাস লালকেল্লা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমা হামলার হুমকি (Bomb Threat)! প্রশ্ন উঠছে, ই-মেলের পিছনে কে? নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা, নাকি আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র? তদন্তকারীরা হুমকির উৎস খতিয়ে দেখছেন। ই-মেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, কে বা কারা এর পিছনে রয়েছে এবং হুমকির কোনও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।
এর আগে গত ৩ অগস্ট দিল্লির মেয়রের কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ই-মেল এসেছিল বলে জানা যায়। অভিযোগ, পরপর অষ্টমবার এমন হুমকি (Bomb Threat) পাওয়ার ঘটনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপরই কার্যকর করা হয় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রোটোকল। হুমকির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। উৎসবের আগে কি শুধুই আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা, নাকি হুমকির আড়ালে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।


