Aaj India Desk, কলকাতা : আরজি কর মামলায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের জন্য ED ও CBI দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কাছে ‘NOC’ বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন চেয়েছিল। তবে আগের তৃণমুল সরকার সেই অনুমোদন দেয়নি। এবার সেই অভিযোগ তুলে সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে প্রাক্তন সরকারের আমলে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শ্যামবাজারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও বিরোধীদের কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
RG Kar মামলায় NOC নিয়ে অভিযোগ
RG Kar হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেন, “ED এবং CBI RG Kar-এর আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের জন্য NOC চেয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর ধরে সেই ক্লিয়ারেন্স আটকে রাখা হয়েছিল।”
‘বঙ্গবিভূষণ’ নিয়ে প্রশ্ন
এদিন প্রাক্তন সরকারের আমলে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে। তৃণমূলও অতীতে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ এমন একজনকে কেন দেওয়া হয়েছিল?” এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃনমূলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্যামবাজারের সভা নিয়েও কটাক্ষ
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সম্প্রতি শ্যামবাজারে কর্মসূচি করেছিল তৃণমূল। সেই কর্মসূচি নিয়েও বিরোধীদের নিশানা করেন শুভেন্দু। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “বড় বড় বক্তৃতা হচ্ছে! কিন্তু পাঁচ জনকে নিয়ে চুপিসারে শ্যামবাজারে গিয়ে নাটক করেছেন, সঙ্গে ছিলেন ১০০ জন সাংবাদিক আর পাঁচ জন সমর্থক।”
RG Kar মামলার তদন্ত, NOC নিয়ে অভিযোগ এবং অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, এই তিনটি পৃথক ইস্যুতেই এদিন রাজনৈতিক আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতি তদন্ত থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের পুরনো সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্ত সবকিছু নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তৃনমূল কংগ্রেস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগগুলোর কোনো প্রত্যুত্তর দেয় কিনা, এবার সেটাই দেখার।


