Aaj India Desk, কলকাতা : হাবরায় ধৃত পাকিস্তানি গুপ্তচর রানা রউফ খালিদের নোটবুক ও ডায়েরি ঘেঁটে আন্তর্জাতিক গুপ্তচরচক্রের আরও তথ্য পেল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, নোটবুকে অন্তত ছয় জনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন নেপালের এবং এক জন বাংলাদেশের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ধৃত রানা মোবাইল ফোন ভেঙে তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তাঁর কাছে থাকা দু’টি সিম কার্ড তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
নোটবুকেই মিলল নতুন সূত্র
সম্প্রতি হাবরা থেকে পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ (STF)। তাঁকে সহযোগিতার অভিযোগে তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজকেও গ্রেফতার করা হয়।তদন্তে উঠে এসেছে, রানার সঙ্গে পূর্ব কলকাতার আরও দু’জন বাসিন্দার যোগাযোগ ছিল। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেপালের পাঁচ এজেন্টের নাম
রানার নোটবুকে নেপালের পাঁচ জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের নাম কাশিফ, হানিফ চৌধুরী, সোহেল, জেডি এবং হারুন সফদর। তাঁদের সঙ্গে রানার যোগাযোগের ধরন এবং গুপ্তচরচক্রে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রানা কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সেনা শিবির, সীমান্তবর্তী BSF ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, রেললাইন এবং বিভিন্ন মানচিত্রের ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে নেপালে থাকা এজেন্টদের কাছে পাঠাতেন।
বাংলাদেশেও যোগাযোগের পরিকল্পনা
নোটবুকে বাংলাদেশের এক ব্যক্তির নামও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের (STF) দাবি। তাঁর নাম পাভেল। তদন্তে জানা গিয়েছে, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর রানা বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশের দাবি, বাংলাদেশের যশোরে পাভেল তাঁর জন্য নতুন একটি মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। সেই ফোনে পুরনো সিম কার্ড ঢুকিয়ে নেপাল ও পাকিস্তানে থাকা যোগাযোগগুলিকে ফের সক্রিয় করার পরিকল্পনা ছিল রানার।
নেপালেই ভেঙেছিলেন মোবাইল
প্রমাণ নষ্ট করার জন্য নেপালে থাকাকালীন রানা নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছিলেন। তবে তাঁর কাছে থাকা দু’টি সিম কার্ড নষ্ট করা হয়নি। বর্তমানে সেই সিম দু’টি তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। সেগুলির কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রেফতারের সময় রানা নিজেকে ‘ওয়াহাব আলম’ নামে তপসিয়ার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আধার ও ভোটার কার্ড দেখান। কিন্তু NRC এবং পরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ জেরার পর তিনি পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই গুপ্তচরচক্রের যোগাযোগ নেপাল, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তে পাওয়া তথ্য বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। তবে নোটবুকে পাওয়া নামগুলির প্রত্যেকের ভূমিকা এবং তাঁদের সঙ্গে রানার যোগাযোগের প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।


